ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ৩১ জুলাই, ২০১৮ ১৬:০৩

হামলার এক মাস পর আবার কর্মসূচিতে নুর

ঢাবি প্রতিনিধি
হামলার এক মাস পর আবার কর্মসূচিতে নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের পিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়ার এক মাস পর সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে কর্মসূচিতে যোগ দিলেন নুরুল হক নুর।

মঙ্গলবার দুপুরে কোটা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন নুর।

কোটা নিয়ে আন্দোলন কর সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুলকে গত ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বেদম পেটানো হয়। এরপর তাকে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। কারণ, চাপের মুখে বিভিন্ন হাসপাতাল তাকে ছুটি দিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের অনুসারীরা ৯০ দশকের শেষ দিকে আন্দোলনের চেষ্টা করে। সে সময়, পরে ২০০৭ এবং ২০১৩ সালে এই আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর এবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

গত ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো কোটা থাকবে না। তবে পরে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের আদেশ রয়েছে। তবে কোটা সংস্কার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করছে যাদের গত ২৩ জুলাই প্রতিবেদন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগে কমিটি প্রতিবেদন দিতে তিন মাস সময় চায়।

তবে আন্দোলনকারীরা এখনই প্রজ্ঞাপন চাইছেন। আর এই দাবিতেই মিছিল সমাবেশে অংশ নেন নুর। তিনি বলেন, ‘কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে আপনি বসুন। আমাদের কথা শুনুন।’

‘কেননা আপনি এর আগে বলেছেন, গণভবন সবার জন্য উন্মুক্ত। আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চাই।’

কোটা সংস্কারের জন্য সুপারিশ করতে গঠন করা কমিটির মেয়াদ ৯০ বাড়ানোর বিষয়ে কোটা আন্দোলনের এই নেতা বলেন, এই ৯০ দিন যেতে না যেতেই নির্বাচন চলে আসবে। তখন আর কোটা সংস্কার হবে না। তাই এখনই কোটা সংস্কার দাবি জানান। তা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

কোটা আন্দোলনকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই উল্লেখ করে নুর বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নই। সারা বাংলার ছাত্র সমাজ এই আন্দোলনে জড়িত। দয়া করে কেউ আমাদের রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত বলে ট্যাগ দেবেন না।’

তাদের ওপর ‘ছাত্রলীগের কিছু সন্ত্রাসী’ হামলা উল্লেখ করে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয় সমাবেশে।

আন্দোলনকারীদের উপর হামলাকারী এবং ছাত্রী ও শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের বিচার, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং কোটা সংস্কারের সংস্কারের প্রজ্ঞাপন দেয়ার দাবিও জানান নুর।

এর আগে কোটা আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়কের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু করে কলা ভবন. ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, সিনেট ভবন, ভিসি চত্বর, টিএসসি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সায়েন্স লাইব্রেরি এবং কার্জন হল ঘুরে টিএসসির রাজু ভাষ্কর্যে এসে শেষ হয় মিছিলটি।

উপরে