শাজাহান খান বিচারে বাধা দেবেন, প্রশ্নই আসে না’
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চালকের বিচার হবে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গণমাধ্যমকে বলেছেন, দুর্ঘটনায় নিহত দিয়া আক্তার মিমের বাসায় গিয়ে পরিবারকেও বলে এসেছেন।
মঙ্গলবার মন্ত্রী রাজধানীর মহাখালী এলাকায় মিমের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে এসে মুখোমুখি হন গণমাধ্যমকর্মীদের। সেখানে তিনি পরিবহন খাতে নৈরাজ্য, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, অদক্ষ চালক, ফিটনেসহীন গাড়ি চলাচলসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।
মন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকরা জানিতে, তিনি বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন, তাতে পরিবহন শ্রমিকদের নেতা নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবেন কি না।
জবাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী শাজাহান খান ট্রান্সপোর্টের শ্রমিকদের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। তিনি অবশ্য বলছেন বিচার করতে হবে। ওনি বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বিত করবেন কিংবা বাধা দেবেন, এই ধরনের প্রশ্নই আসে না।’
‘তিনিও সরকারের একটা পার্ট তিনি বাধা দেবেন বলে যে প্রসঙ্গটা আসছে, কথাটা আসছে আমার মনে হয়, এই বাধায় কোনো কাজ হবে না। এটার উপযুক্ত বিচার হবেই।’
গত বরিবার দুর্ঘটনার দিন সাংবাদিকের প্রশ্নে নৌ মন্ত্রী বলেছেন, যার যতটুকু অপরাধ তার বিচার হবে। তবে প্রশ্ন শুনে হাসিমুখে কথা বলার ছবি ক্ষুব্ধ করেছে শিক্ষার্থীদের। গত দু্ই দিন ধরে বিক্ষোভে মন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে বলছেন তারা।
ছাত্রদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সহপাঠী নিহত হয়েছে, ছাত্ররা তাদের সমবেদনার কথা বলতেই পারে। ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারে। আমরাও ব্যাথিত। এই যে বাচ্চা ছেলেটিম বাচ্চা মেয়েটি প্রাণ হারালো এই জন্য আমরা দুঃখিত। এটা যাতে আর না হয় সেটার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
ছাত্রদের দাবি পূরণ হবে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘দাবি তো হবেই। একটা প্রাণ হারিয়েছে দাবি হবে না? আমরা দেখব, যতখানি ইনপ্লিমেন্ট করা যায় আমরা করব। যে হারায় সেই বুঝে কতটা বেদনা।’
নৌমন্ত্রী অবশ্য সোমবারই সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে তার হাসির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, আনন্দঘন একটি অনুষ্ঠান ছিল, কিন্তু সাংবাদিকরা যে তাকে এই প্রশ্ন করবেন, সেটি তিনি বুঝতে পারেননি। তাছাড়া তিনি কখনও গোমরা মুখে থাকেন না, সেই বিষয়টিও জানান তিনি।
অবশ্য এই হাসিমুখে থাকা উচিত হয়নি, সেটিও স্বীকার করেছেন নৌমন্ত্রী। বলেন, , ‘আপনারা আমার হাসির ছবি দেখিয়েছেন, সে কারণে আমার নিজেরও খারাপ লেগেছে। কারণ, শিক্ষার্থীদের প্রতি আমারও সহমর্মিতা আছে। সুতরাং এই ছবি দেখার পরে আমি নিজেও মর্মাহত হয়েছি। এটা সিচুয়েশনের সাথে যায় না।’
ওই হাসির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নৌমন্ত্রী বলেন. ‘আর আমি সব সময়ই হাসি, আমার কালো মুখ কেউ দেখেনি। এটা কি দোষের? এ ঘটনায় আমার ক্ষমা চাওয়ার কথা না, তারপরও দুঃখ প্রকাশ করছি।’
