লেগুনায় চালক দেখলেই ভয় জাগে মনে
রাজধানীতে চলাচলকারী হিউম্যান হলার বা লেগুনার দিকে তাকালে প্রায়ই আঁৎকে উঠতে হবে। প্রায়ই চোখে পড়বে কিশোর এমনকি শিশুরাও চালাচ্ছে এই গাড়িগুলো
রাজধানীতে বিভিন্ন সড়কে স্বল্প দূরত্বে চলে এই যানবাহনগুলো। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সড়ক তুলনামূলক সরু এবং বাস চলে না, সেসব এলাকায় চলাচলের জন্য চার চাকার এই ছোট গাড়িগুলোর ওপর নির্ভর করে যাত্রীরা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর দেয়া তথ্য মতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় হিউম্যান হলারের রুট সংখ্যা ১৫৯টি। এই ১৫৯টি রুটে অনুমোদিত লেগুনার সংখ্যা দুই হাজার ৫২৫টি। যদিও বাস্তবের সাথে এই সংখ্যার কোনো মিল নেই।
অনুমোদনহীন লেগুনার সাথে আছে অনুমোদনহীন ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক। একাধিক চালক কিশোর চালক বলেছেন, সাহস করে তারা স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছেন।
রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে ফার্মগেট রুটের লেগুনা চালক ফরিদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘কয়জনের লাইসেন্স আছে? লাইসেন্স থাকলে লেগুনা চালামু কেন? প্রাইভেট চালামু। ওই জায়গায় দুই তিন জন চিল্লাচিল্লি করব। এহানে তো দৈনিক একশ জন চিল্লায়।’
কারণ, লেগুনায় আসলে প্রথম কিছুদিন লেগুনা সহকারী হিসেবে কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে দৈনিক আয় থাকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। অন্য গাড়ি চালানো শিখতে হয় টাকা দিয়ে। সহকারীরা ওস্তাদের (চলকের) থেকে দ্রুতই শিখে ফেলে চালানো। এক মাসেরও কম সময়ে লেগুনা চালানো শিখে ফেলে প্রতিজন লেগুনা সহকারী।
আসলে সহকারী হতে নয়, যারা লেগুনায় আসেন তাদের সকলেই লক্ষ্য চালক হওয়া।
১৮ বছর বয়সী নাইম চালক হয়েছেন তিন বছর আগে। তার আগে এক বছর ছিলেন চালকের সহকারী।
মিরপুর রুটের লেগুনা এই চালক ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘হেলপার আর কয় দিন থাকে, এক মাস হেলপারি করলেই ড্রাইভার হইয়া যায়। আমার নিজেরই চারডা সারগিদ (ছাত্র) আছে। এহন ওরা ড্রাইভার। মন থাকলে গাড়ি চালানো শিখতে সময় লাগে না।’
১৩-১৪ বছর বয়সে চালকের আসনে বসেন এসব শিশুরা। দুর্ঘটনাপ্রবণ রাজধানীতে দ্রুত গতির লেগুনা চালায় এরাই। ঘটনাগুলো জনসাধারণ ও প্রশাসনের চোখের সামনে হলেও তেমন কোনো সুরাহা হয়নি। মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় কিছু জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ প্রশাসনের।
যাত্রীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনা ঘটার আগ পর্যন্ত এসব বিষয় পুলিশের নজরে আসে না।
লেগুনার নিয়মিত যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লেগুনায় উঠলে প্রায় দেখি বাচ্চারা লেগুনা চালাচ্ছে। অন্য গাড়িকে ধাক্কা দেয়, আইলেনে লাগিয়ে দেয়, দেখি। বাচ্চা জন্য কেউ কিছু বলতেও পারি না।’
প্রায়শই এমন দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যদের নিয়ে চলা লেগুনার আসনেও বসা অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক।
তবে পুলিশ ব্যবস্থা নেয় না কেন? তথ্য মেলে এর কারণ চাঁদা। যে রুটেই গাড়ি চলুক না কেন প্রতিদিনই চাঁদা দিতে হয় পুলিশকে। আর যারা ব্যবস্থা নেবে, তারা টাকা দিলে আর পায় কে?
