ছাত্রদের বিক্ষোভ যৌক্তিক: কাদের
বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়া ছাত্র বিক্ষোভকে অযৌক্তিক মনে করেন না সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছাত্রদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আইন পাস হচ্ছে, এরপরই সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
গত রবিবার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের পর ছড়িয়ে পড়া ছাত্র বিক্ষোভ আজ চতুর্থ দিনে গড়াল। তবে প্রথম দিন ছাত্ররা কেবল বিমানবন্দর সড়কে ভাঙচুর করলেও পরদিন থেকে নগরীর অন্য সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
এর মধ্যে বুধবার সড়কমন্ত্রী সেতু ভবনে মুখোমুখি হন গণমাধ্যমকর্মীদের। তিনি বলেন, ‘এখানে একটা প্রচণ্ড ইমোশন কাজ করেছে, এর বাস্তবতাও আছে। কারণ দুইজন সম্ভাবনাময়ী শিক্ষার্থী মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। সেটার প্রতিবাদে এমন বিক্ষোভ আমি অযৌক্তিক বলে মনে করি না। এ ধরনের বিক্ষোভ হতেই পারে।’
এই বিক্ষোভের মধ্যে বুধবার সড়কে বাসের সংখ্যাও আবার কম। এ বিষয়ে কাদের বলেন, ‘কিছু কিছু অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হওয়াতে পরিবহনের লোকজন কিছুটা ভয় পেয়েছিল। তারা তো ভাঙচুরের মধ্যে গাড়ি নামাতে চাইবে না। আমার মনে হয় ভীতিটা কেটে যাবে। আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
এটা কি ভীতির কারণে নাকি কেউ কলকাঠি নাড়ছে- এমন এমন প্রশ্নে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘না না, এটা ভীতির কারণ। কারণ এমন অবস্থায় গাড়িতে আগুন দেবে বা ভাঙচুর করবে এই আশঙ্কা তো তাদের থাকতেই পারে।’
ছাত্রদের কিছু বলবেন কি না?- জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘চলমান বিক্ষোভ কি এখনো আছে নাকি?’
তার প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ আজকেও চলছে জানালে মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অনেক কম। এ ব্যাপারে চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি তাদেরকে বলব, সড়কে দুর্ঘটনা ও সড়কে বিশৃঙ্খলা নিয়ে আইন কেবিনেটে আসছে এবং আগামী সংসদ অধিবেশনে এ ব্যাপারে আইনও পাস হবে।’
‘কাজেই আমি ছাত্রছাত্রীদের বলব যে, আমরা সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নিজেই অবৈধ চালকদের ধরার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং তিনি মর্মাহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। নৌমন্ত্রী নিজেও ক্ষমা চেয়েছেন।’
‘আমি ছাত্রছাত্রীদের বলব শান্ত হওয়ার জন্য। স্ব স্ব ক্যাম্পাসে ফিরে গিয়ে তারা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করবে। আমরা ভবিষ্যতে যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য কঠোর আইন করতে যাচ্ছি এবং ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।’
‘গত নয় বছরে সড়ক পরিবহনে নৈরাজ্য যতবারই আলোচনায় এসেছে ততবারই নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের নাম এসেছে। সরকার কি তাকে নিয়ে এখন পর্যন্ত বিব্রত কি না?’- এমন প্রশ্নে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের সময়ের আগে টার্মিনালে খুনোখুনি নিত্যদিনের ঘটনা ছিলো। কিন্তু এই সরকারের সময়ে কিন্তু এই নৈরাজ্য হয়নি এবং যেভাবে ধর্মঘট হওয়ার কথা ছিলো সেভাবে হয়নি। একমাত্র চিটাগংয়ে ঈদের সময় একটা ধর্মঘট হয়েছিল, যাতে ভোগান্তিও হয়েছিলো। এছাড়া কিন্তু কোনো ধর্মঘট স্থায়ী রূপ নেয়নি। বাকিগুলো যেদিন ডেকেছে সেদিনই প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।’
‘এখানে নৈরাজ্য হয়নি। তবে বিশৃঙ্খলা আছে। সড়কেও আছে, পরিবহনেও আছে। এটা আমরা অস্বীকার করছি না।’
‘এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি আইন জরুরি ছিল। সে আইনটা আশা করি পাস হয়ে যাবে। তারপর এটার লাগাম টেনে ধরার জন্য কিছু কিছু বাস্তব পদক্ষেপ আমরা নিতে পারব এবং কঠিন ও কঠোর পদক্ষেপও আমরা নিতে পারব।’
নৌমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সরকার বিব্রত কি না? এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কমেন্টের পর তো আর কোনো কমেন্ট করেননি। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করি। তারই টিমে আছি। নৌমন্ত্রীও আমার মতো একজন মন্ত্রী। আমাদের সবার ওপর প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে মন্তব্য করার পর আমার কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
বছর দেড়েক আগে সড়কে বাসের বিরুদ্ধে অভিযানের মধ্যে সড়কমন্ত্রী বলেছিলেন, এদের ক্ষমতার হাতটা অনেক বড়। সেই ক্ষমতা আপনারা কমাতে পেরেছেন কি না-এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘দেখুন আমি বলছি আইনটা আসুক। আইনটা পাস হোক। আইনটা ক্যাবিনেটে অ্যাপ্রুভ হোক। আমি আশা করছি, আইনটা সর্বোচ্চ দুমাসের মধ্যে এই সরকারের সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে পাস হবে। আইনটা পাশ হলে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব।’
