অবরোধে অচলাবস্থা দেশের প্রধান দুই মহাসড়কেও
রাজধানীর বিমানবন্দরের কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তৃতীয় দিনের মতো বুধবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করেছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত অবরোধ করে রেখেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। অন্যদিকে রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম পয়েন্ট যাত্রাবাড়িতেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে রেখেছেন। এর ফলে দেশের দুই প্রধান মহাসড়কে যান চলাচলে অচলাবস্থার তৈরি হয়েছে।
সকালে যাত্রাবাড়ী মোড়ে অবস্থান নেয় ড. মাহবুবুর রহমান রহমান কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আশপাশ এলাকার আরো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া এবং প্রবেশমুখো যানবাহনগুলোর যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন।
সকাল থেকেই উত্তরার বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হন উত্তরার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, শান্ত-মরিয়াম ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, আইইউবিএটি ইউনিভার্সিটি, মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা হাইস্কুল, টঙ্গী সরকারি কলেজ, বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, উত্তরা কমার্স কলেজসহ প্রায় অর্ধ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই ধারে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। ফলে ময়মনসিংহ মহসড়ক হয়ে বিভিন্ন জেলামুখি বাসগুলো আটকা পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিরাপদ সড়ক ও নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। রাস্তা আটকাতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দিলেও রাস্তা থেকে শিক্ষার্থীদের সরানো যায়নি। দফায় দফায় তারা রাস্তায় অবরোধ করে।
এদিকে অবরোধের কারণে মঙ্গলবারের মতো সারা ঢাকায় গণপরিবহন কম দেখা যাচ্ছে। যানবাহন চলাচলে অচলাবস্থার ফলে রাজধানীর মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে জাবালে নূর বাসের চাপায় শহিদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনম্যান্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার বিচারের দাবিসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। টানা আন্দোলনের চতুর্থ দিন আজ।
গত তিনদিনই শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দেয়া হয়। এদিকে বেপরোয়া ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
