গণপরিবহন সংকটে ‘পকেট কাটছে’ রিকশা-সিএনজি চালকেরা
ফতেখার আহমেদ ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা। তিনি শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে ভর্তি এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে এসেছেন। সকালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস পেলেন না। অপেক্ষা করতে করতে এক সময় ঠিক করলেন সিএনজিতে যাবেন। কিন্তু সিএনজিচালক তার কাছে যে ভাড়া দাবি করলেন সেটা তার পকেটেও নেই। নিরুপায় হয়ে আবারও বাসের জন্যই অপেক্ষা।
ইফতেখার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সপ্তাহখানেক হলো আত্মীয় ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে, কিন্তু অফিসের কাজের কারণে আসতে পারিনি। সকালে অনেক কষ্ট করে বাস পেলেও এখন পাচ্ছি না। ভাবলাম সিএজিতে চলে যাই। বেটা এখান থেকে ক্যান্টনমেন্ট ৫০০ টাকা দাবি করছে, যেটা আমার পকেটেও নেই। একদিকে ন্যায্য আন্দোলনের দাবি, অন্যদিকে অন্যায্য ভাড়া আদায়।’
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন সুমাইয়া তাহমিন। শাহবাগ মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক রিকশা চালককে ফার্মগেটের ভাড়া জিজ্ঞেস করতেই তিনি ১০০ টাকা দাবি করেন। তিনি আরও কয়েকটি রিকশা যাচাই করেন। তারা এর চেয়েও বেশি ভাড়া হাঁকেন। এতে বিরক্ত হন তিনি।
সুমাইয়া বলেন, ‘দেখেন না, কী অবস্থা। সুযোগ পেয়ে ৫০-৬০ টাকার ভাড়া একশ থেকে দেড়শ পর্যন্ত চাচ্ছে ওরা। এটার কোনো মানে হয়। তোরা কেন এত ভাড়া চাইবি, এখনতো রাস্তা পুরা ফাঁকা। এটা যেন পকেট কাটার উৎসব। যে যেভাবে পারছে নিচ্ছে।’
কেন বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে জানতে চাইলে আজগর নামে এক রিকশাচালক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ঢাহা শহরে আন্দোলনের মইধ্যে দুইডা টাহা বেশি চাইতেই পারি। আমগো জীবনের রিস্ক নিয়া এইসব সময়ে গাড়ি চালাই, দুইডা টাহা বেশি দিলে হেগো পকেটে কি কইমা যাইবো।’
এই চিত্র শুধু শাহবাগ এলাকা কিংবা ইফতেখার ও সুমাইয়াদের নয়। রাজধানীর সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ধান্দায় মেতেছেন সিএনজি-রিকশা চালকরা।
গত রবিবার বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন থেকে সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন আটকে রেখে বিক্ষোভ করে ছাত্ররা। ছাত্রদের অবস্থান সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারও রয়েছে সড়কে সড়কে। আবার ‘ভাঙচুর ও আগুনের ভয়ের কথা বলে’ বাস নামাতে চাইছে না পরিবহন মালিকরা। বাস মালিকরা বলছেন, সড়কে গাড়ি ভাঙচুরের কারণে পরিবহন শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না। অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, মালিকরা বাস নামাতে নিষেধ করেছেন।
দূরপাল্লা ও স্বল্পপাল্লার পাশাপাশি নগর পরিবহনেরও বাস বন্ধ প্রায়। এই অবস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে জনজীবনে।
ছাত্ররা যে নয় দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে সেগুলো মেনে নেয়ার ঘোষণা এসেছে বুধবারই। আর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাবা এবং মা ছাত্রদের রাস্তা থেকে উঠে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।
সেদিন বিকালে ছাত্ররা উঠে গেলেন গভীর রাতেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ছাত্র নামধারীদের রাস্তায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। কিন্তু পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
