ঢাকার সড়কে বাস নামেনি আজও
নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত কয়েকদিনের ছাত্র বিক্ষোভের জেরে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে বাসশূন্য হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা। গত তিন দিনের মতো আজও ঢাকার সড়কে বাস নেই। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার সকাল থেকে রাজধানীজুড়ে দেখা দিয়েছে গণপরিবহন সংকট। এমনকি ঢাকা ছাড়ছে না দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস সার্ভিস। তবে সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করতে দেখা গেছে। যারা এসব যানে উঠে গন্তব্যে যাচ্ছেন তাদের গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণের চেয়েও অতিরিক্ত টাকা।
গত রবিবার দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ঘটনার পর নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসতে হাসতে বিষয়টিকে নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন।
এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পাঁচ দিন ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে অবস্থান নেয়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পুরো ঢাকা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এছাড়া রাজধানীর বাহিরেও ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন।
এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার সচিবালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। পরে তিনি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্ববানের পর সেদিন বিকালে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে গেলেও পরদিন থেকে আবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ করতে থাকেন তরা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল অনেক কম। গত তিন দিনের মতো শনিবারও রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক ছিল গণপরিবহনশূন্য। এর ফলে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশায় করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
সরেজমিনে নিয়ে দেখা গেছে, ঢাকার তিনটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ। টার্মিনালের ভেতরে ও টার্মিনালের সামনের সড়কে সারি করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন গন্তব্যের বাস। রাজধানী থেকে সকালে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গসহ সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম সড়ক পথে বাস চলাচল বন্ধ। ঢাকার ভেতরও সাধারণ গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে।
রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, মিরপুর রোড, সাত মসজিদ রোড, ফার্মগেট, প্রগতি সরণি, এলিফ্যান্ড রোড, বংশাল, মোহাম্মদপুর এলাকা ঘুরে কোনো গণপরিবহন দেখা যায়নি।
মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, যাত্রাবাড়ি যাওয়ার জন্য সকাল আটটার দিকে এখানে এসেছি। আধা ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো বাসের দেখা মিলছে না। দুএকটি বিআরটিসির বাস আসলেও সেখানে মানুষে ঠাসা থাকায় উঠতে পারছি না। এখন সিএনজি অটোরিকশায় করে রওনা হওয়ার চিন্তা করছি।
হাবিবুর রহমানের মতো শত শত মানুষ গাড়ির জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। আবার কেউ কেউ হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন।
রবিবার থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনেক গাড়ি ভাঙচুর করায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করে বাস মালিক-শ্রমিকেরা গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন বলে পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান।
