ধানমন্ডিতে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ
রাজধানীতে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সপ্তম দিনে ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সিটি কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা অষ্টম দিনের মতো জড়ো হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে মিছিল নিয়ে গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এতে ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। ছাত্র -পুলিশ সংঘর্ষে ১২ জন শিক্ষার্থীর আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল বলে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
আজ রোববার ধানমন্ডি, সাইন্সল্যাব, জিগাতলা, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ অবস্থায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সকাল থেকেই বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
২৯ জুলাই দুর্ঘটনার পরই আন্দোলন শুরু হয়ে গতকাল শনিবার পর্যন্ত তা একই ধারায় চলে। তবে গতকাল বিকেলে জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর গুজব ছড়িয়ে পড়ে সেখানে ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
এরপর আজ রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাস্তায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান আগের দিনগুলোর মতো নেই। তবে শাহবাগে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জড়ো হন। তবে অন্যদিনের মতো আজ এই শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্মে দেখা যায়নি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে রূপসী বাংলা হোটেলের দিকে ব্যারিকেড বসিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় নিহত হন মিম ও করিম নামে দুই শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহতও হন । এ ঘটনায় দিয়ার বাবা ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন।
দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার তাদের আন্দোলনের অষ্টম দিনেও কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে ঢাকা শহরের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিকরা।
এরই মধ্যে শনিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্ররূপী বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।
জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে গতকাল বিকেলে।
