চার বছর পর ভারতে ধরা বোমারু মিজান
সাড়ে চার বছর আগে ময়মনহিংসের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলার পর পালিয়ে যাওয়া এক জঙ্গি ধরা পড়েছেন ভারতে। তার নাম জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান। তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের-জেএমবি ‘বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় হামলার আসামি হিসেবে মিজানকে ধরতে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ভারত সরকার।
২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর কাশিমপুর কারাগার থেকে মিজান ছাড়ও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই জঙ্গি নেতাকে নিয়ে ময়মনসিংহ রওয়ানা হয়েছিল পুলিশ। এরা হলেন
সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি এবং হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব হাসান। মিজান ছিলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে পৌঁছার পর প্রিজন ভ্যানে হামলা করে জঙ্গিরা। খুন করা হয় পুলিশ কনস্টেবল আতিকুল ইসলামকে। আহত হন আরও দুই জন। এর মধ্যে পালিয়ে যান সাজাপ্রাপ্ত তিন জঙ্গি।
পরে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটক করতে পারে রাকিব হাসানকে। পরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান তিনি।
অন্য দুই জঙ্গি নেতার খোঁজ দিতে সে সময় দুই লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গণমাধ্যমে খবর আসে, তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন। মিজানের গ্রেপ্তারে সেই খবরই সত্য প্রমাণ হয়েছে।
মিজান ভারতে পালিয়ে গিয়ে সে দেশের জঙ্গিদের সঙ্গে মিশে অপতৎপরতা চালাতে থাকেন বলে তথ্য আছে সে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ের একটি দোতলা বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই জঙ্গি নিহত এবং একজন আহত হয়।
ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা-এনআইএ জানতে পারে, খাগড়াগড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণের অন্যতম হোতা বোমারু মিজান। তিনি পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান নিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পরে খাগড়াগড় মামলার আসামি হিসেবে বোমারু মিজানকে ধরতে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ২০০৯ সালের ১৫ মে কাফরুলের তালতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বোমারু মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বোমা মিজানকে সঙ্গে নিয়ে তার মিরপুরের বাসায় যায় র্যাব। তখন বাসার ভেতরে থাকা বোমারু মিজানের স্ত্রী হালিমা র্যাবকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। পরে ওই বাসা থেকে বোমা ও বিস্ফোরকসহ হালিমাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ ঘটনায় মিজান ও তার স্ত্রীকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
