ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
আপডেট : ৮ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:৫০

সেই রোজ গার্ডেন কিনে নিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেই রোজ গার্ডেন কিনে নিচ্ছে সরকার

পুরান ঢাকার যে ভবনে আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই রোজ গার্ডেন কিনে নিচ্ছে সরকার। পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত ওই বাড়ি কিনতে সরকারের ব্যয় হবে ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ দুই হাজার ৯০০ টাকা।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন পায়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন’ অনুসারে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বর্তমান মালিকদের কাছ থেকে রোজ গার্ডেন কিনবে।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মধ্যেই বাঙালিদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন হৃষিকেশ রোডের এই ভবনেই যাত্রা শুরু হয় আওয়ামী মুসলিম লীগের। পরে অবশ্য ১৯৫৫ সালে দলটিকে ধর্মনিরপেক্ষ রূপ দিয়ে নাম নয় আওয়ামী লীগ।

এই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই পাকিস্তান আমলে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চলেছে আর তাদের নেতৃত্বেই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী রোজ গার্ডেন ১৯৩১ সালে ঋষিকেশ দাস নামে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পুরান ঢাকার ঋষিকেশ রোডে ২২ বিঘা জমির উপর একটি বাগানবাড়ি তৈরি করেন।

বাগনে প্রচুর গোলাপ গাছ থাকায় এর নাম হয় ‘রোজ গার্ডেন’। এছাড়া বাগানটি সুদৃশ্য ফোয়ারা, পাথরের মূর্তি ইত্যাদি দ্বারা সজ্জিত ছিল। মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি কামরা আর একটি বড় নাচঘর আছে। নিচতলায় আছে আটটি কামরা।

ভবনটির মোট আয়তন সাত হাজার বর্গফুট। উচ্চতায় ৪৫ ফুট। ছয়টি সুদৃঢ় থামের উপর এই প্রাসাদটি স্থাপিত। প্রতিটি থামে লতাপাতার কারুকাজ করা। প্রাসাদটির স্থাপত্যে করিন্থীয়-গ্রীক শৈলী অনুসরণ করা হয়েছে।

ভবন নির্মাণের কিছুদিন পর ঋষিকেশ দাশ দেউলিয়া হয়ে যান। ১৯৩৭ সালে রোজ গার্ডেন বিক্রি হয়ে যায় খান বাহাদুর আবদুর রশীদের কাছে। এর নতুন নামকরণ হয় ‘রশীদ মঞ্জিল’।

১৯৬৬ সালে কাজী হুমায়ুন বসির ভবনটির মালিকানা লাভ করেন। ১৯৭০ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল স্টুডিও’ কে ইজারা দেয়া হয়। এ সময়ে চলচ্চিত্রের সূটিং স্পট হিসাবে এই ভবনটি ব্যবহৃত হয়। এখানে চিত্রায়িত কাহিনী চিত্র ‘হারান দিন’ এ রোজ গার্ডেনের সেই সময়কার চিত্র সংরক্ষিত আছে।

১৯৯৩ সালে কাজী হুমায়ুন বসিরের বংশধর কাজী রবিক বাড়িটির মালিকানা ফেরত পান। ১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই প্রাসাদটি সংরক্ষণ  তালিকাভুক্ত করে

উপরে