মুক্তিযু্দ্ধে ধর্ষিতাদের বীরের স্বীকৃতি চায় ট্রাইব্যুনাল
মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ষিতাদের বীরের স্বীকৃতি দেয়ার সময় এসেছে বলে মনে করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
পটুয়াখালীতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দোসর পাঁচ রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দিয়ে ঘোষণা করা রায়ে সোমবার এই মন্তব্য করা হয়।
১৯৭১ সালে বাঙালির স্বাধীকারের লড়াইকে অস্ত্রের জোরে থামিয়ে দিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের যে আপ্রাণ চেষ্টা ছিল তাতে গণহত্যার পাশাপাশি নয় মাস জুড়ে ব্যাপকভাবে ধর্ষণও করা হয়।
আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ নারীকে যুদ্ধ চলাকালে ধর্ষণ করা হয় এবং হাজার হাজার যুদ্ধ শিশুর জন্ম হয় এতে। যুদ্ধের পর ধর্ষিতারা নিদারুণ দুরবস্থায় পড়ে। বিশেষ করে সে সময়ের রক্ষণশীল সমাজ তাদেরকে মেনে নিতে রাজি ছিল না। এ কারণে বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে নির্াতিতাতের তালিকা পোড়ান আর যুদ্ধ শিশুদেরকে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে এসে নিঃসন্তান দম্পতিরা দত্তক হিসেবে নিয়ে যায়।
গত প্রায় পাঁচ দশকে একাত্তরের ধর্ষিতাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টেছে। তাদেরকে বীরাঙ্গনা উপাধি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিও দেয়া হচ্ছে।
বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল আজ রায়ে বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পটুয়াখালী এলাকায় ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল, যা ছিল বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী।’
‘তখন যিনি বা যারা এমন অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন তারা সারাজীবন সেই যন্ত্রণা বহন করে যাচ্ছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব মা-বোনেরা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের ওয়ার হিরো (যুদ্ধ বীর। সময় এসেছে তাদের ওয়ার হিরোর স্বীকৃতি দেয়ার।’
রায়ে বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে পটুয়াখালীর সার্কিট হাউজ ছিল একটি ‘রেপ ক্যাম্প’।
যারা মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন তারা হলেন: ইসহাক সিকদার, আব্দুল গণি হাওলাদার, আব্দুল আওয়াল ওরফে মৌলবী আওয়াল, আব্দুস সাত্তার প্যাদা ও সুলাইমান মৃধা। তারা সবাই যুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গড়ে উঠা রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সবার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
সোমবার রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান। এ সময় আসামিরা সবাই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের ৮ মার্চ এ মামলার অভিযোগ গঠন মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
