ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ২৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:২০

রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিয়ে নির্যাতন হবে না, নিশ্চয়তা চান শাহরিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিয়ে নির্যাতন হবে না, নিশ্চয়তা চান শাহরিয়ার

বাংলাদেশে আশ্রিত এগারো লাখ রোহিঙ্গা থেকে মাত্র কয়েক হাজার ফিরিয়ে নিয়ে আবারও জুলুম-নির্যাতন করা হলে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরত যেতে মানসিকভাবে প্রস্তুত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিমসটেক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিপ্রায় থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ। আর অভিযানের বিষয়ে দেওয়া জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিমত জানতে চাওয়া হয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি আজ বিশ্বসভায় প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং তাদের প্রত্যাখানে কিছু আসে যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারে গেছেন। সেখানে সীমান্ত সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যেন পিছিয়ে না দেয় তার জন্যে আমরা কাজ করছি। আমরা নিশ্চিত করতে চাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যেন টেকসই হয়।’

‘১১ লাখ মানুষের মধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে পাঠিয়ে দেয়ার পরে সেখানে আবারও যদি জুলুম নির্যাতন হয় তাহলে বাকি মানুষরা যাওয়ার জন্যে মানসিক ভাবে প্রস্তুত হবে না।’

বিমসটেকের চতুর্থ সম্মেলন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসন বিষয়ে আলোচনা হবে না বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই ফোরামে মিয়ানমারও রয়েছে। তবে এখানে আমরা রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা করবো না। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিমসটেক সম্মেলনের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করার আশা করা হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, তবে বিভিন্ন ইস্যুতে বিমসটেক সম্মেলনের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করার আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন তিনি।

বিফ্রিংয়ে জানানো হয়, সামিট অব দ্যা বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টোরাল টেকনিক্যাল এন্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) ৪র্থ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবারের বিমসটেক সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং টেকসই বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এই সম্মেলনে অংশ নিবেন।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট বিমসটেকের সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার ২৯ আগস্ট ১৬তম বিমসটেক পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই দুইটি বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং সচিব মো. শহিদুল হক বর্তমানে নেপাল সফরে রয়েছেন।

কাঠমান্ডুর হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৭টি আঞ্চলিক দেশের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এই শীর্ষ সম্মেলন শুরু হবে। এবারের সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা।

বিমসটেক সম্মেলন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। শীর্ষ সম্মেলনে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর স্বাগত বক্তব্যের পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন।’

‘বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী দিনের বৈঠকে সহযোগিতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বিমসটেকের আওতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, দারিদ্র দূরীকরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন, সংস্কৃতিসহ একাধিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।’

‘শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেক রাষ্ট্রের সরকার প্রধানরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মত বিনিময় শেষে দিক নির্দেশনা দিবেন।’

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটকের গাড়িবহরে হামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। বাংলাদেশ যে কোনো দেশের কূটনীতিককে নিরাপত্তা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

উপরে