ভোটের তারিখ বলায় মুহিতের সমালোচনায় সিইসি
আগামী জাতীয় নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য দেয়া উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি কে এম নুরুল হুদা। বলেছেন, মন্ত্রীকে এ কথা বলতে বলেননি তারা।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ফোরাব অব ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া’-ফেমবসার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সিইসি।
নুরুল হুদা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নির্বাচনের যে তারিখ জানিয়েছেন, তা জানানো তার ঠিক হয় নাই। তার বলা উচিত হয়নি। আমরা তাকে এই তারিখ বলার জন্য বলি নাই।’
অন্য এক প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘কেন তার (মুহিত) সাথে নির্বাচনের তারিখের বিষয়ে আলোচনা করব? এটা তিনি ভুল বলেছেন পরিষ্কার কথা।’
আগের দিন সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার হবে বলে জানিয়েছিলেন। এ সময় তিনি ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে বলে শুনেছেন বলে জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলে জেনেছি তারা প্রস্তাব দিচ্ছে ২৭ ডিসেম্বরের নির্বাচন করার জন্য। ডিসেম্বরের খুব বেশি ডেইট নেই, আজকে শহীদ দিবস বিজয় দিবস অনেক কিছু থাকে। আমার মনে হয় দুই তিনটা ডেইট ছাড়া পাওয়া যায় না। ২৭ তারা করেছে, ২৭ এ নির্বাচন হওয়ার চান্স খুব বেশি। এখনো নির্বাচন কমিশন শিডিউল ঘোষণা করেনি, ঘোষণা করলে সুনির্দিষ্ট দিন পাওয়া যাবে।’
দশম সংসদ নির্বাচন শেষে ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বসে সংসদের প্রথম অধিবেশন। এর আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন থেকে ডিসেম্বরের শেষে ভোটের কথা জানানো হয়েছে।
একটি অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম ২৭ ডিসেম্বর ভোট হতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে যদিও সেখানে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য ছিল না।
আর অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য সমর্থন করেননি ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কবে হবে, সেটি বলা কোনো মন্ত্রীর দায়িত্ব নয়।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অপর এক প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘আমাদের যা লোকবল আছে এ দিয়ে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করার জন্য চেষ্টা করব।’
ঢাকা রেজ্যুলেশনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ফেম্বোসা'র নবম সম্মেলন
ঢাকা রেজ্যুলেশন ঘোষণার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো সার্কভুক্ত দেশসমূহের নির্বাচন কমিশনগুলোর সংগঠন ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়ার (ফাম্বোসা) নবম সম্মেল। বুধবার শুরু হয়ে আজ বৃহস্পতিবার শেষ হলো দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত হয় জোটের নবম এই সম্মেলন। এতে সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলো অর্থ্যাত ভারত, বাংলাদেশ, ভূটান, আফগানিস্তান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং মালদ্বীপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রথমে অনিশ্চিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের নিয়ে মোট ২১জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। এবারের সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে ঢাকা রেজ্যুলেশন পাস হয়। এই রেজ্যুলেশনে নয়টি বিষয়ে ফোরামের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে নির্বাচনের স্টেক হোল্ডারগুলোর মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করা, নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় তদারক ও নিয়ন্ত্রণ করা, ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী সংস্থার প্রতি আস্থা তৈরি এবং নির্বাচনে সাইবার হুমকি থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা অন্যতম।
এর আগে সম্মেলনের প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ফেম্বোসার বর্তমান চেয়ারম্যান স্বাগতিক বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নিকট ফেম্বোসার চেয়ারম্যানশিপ হস্তান্তর করা হয়। আজ থেকে আগামী এক বছরের জন্য এ দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর তিনটি সাধারণ ও ৮টি টেকনিক্যাল সেশনে অংশ নেন সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিরা।
প্রসংগত, বাংলাদেশ থেকে ২০১০ সালে ফেম্বোসার যাত্রা শুরু। পর্যায়ক্রমে ২০১১ সালে পাকিস্তান, ২০১২ সালে ভারত, ২০১৩ সালে ভুটান, ২০১৪ সালে নেপাল, ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কা, ২০১৬ সালে মালদ্বীপ ও ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের নামের ক্রমানুসারে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে নবম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। আগামী বছর পাকিস্তানে এর দশম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
