ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:০৫

রোহিঙ্গারা যেসব ঝুঁকির সৃষ্টি করছে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
রোহিঙ্গারা যেসব ঝুঁকির সৃষ্টি করছে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে বেশকিছু ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। এসব ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবেশের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। সংরক্ষিত বনভূমি উজার এবং ব্যাপকভাবে পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ডিপথেরিয়া, পোলিও, এইআইভিসহ (এইডস) অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অবস্থানের ফলে মানবপাচার, মাদকদ্রব্য চোরাচালানসহ সংঘবদ্ধ অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে এমপি নুরুল ইসলাম মিলনের (কুমিল্লা-৮) প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

শেষ হাসিনা বলেন, জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত বিপুল রোহিঙ্গা জনস্রোতের নজিরবিহীন এক মানবিক সংকটে সীমান্ত উন্মুক্ত রেখে তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়। তবে তাদের দীর্ঘমেয়াদে অবস্থানের সুযোগ নেই। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চাই।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যাপক দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের উপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা রয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এক ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বিতারিত করা ইস্যুতে তদন্ত পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে মিয়ানমার সরকারের উপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

উপরে