ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:৪৯

নিষেধাজ্ঞার পরেও চলছে লেগুনা

ভোরের বাংলা ডেস্ক
নিষেধাজ্ঞার পরেও চলছে লেগুনা

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সড়কগুলোতে লেগুনা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে লেগুনা বন্ধের নির্দেশনা দেন তিনি। কিন্তু তার নির্দেশনার এক মাস যেতেই অধিকাংশ সড়কেই দেখা যাচ্ছে দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে লেগুনা।

পুলিশের নাকের ডগায় পূর্বের ন্যায় অধিকাংশ রুটেই চলাচল করছে লেগুনা। তবে লেগুনা চলাচলে কোন ধরণের বাধার শিকার হচ্ছেন না চালকরা। যদিও অধিকাংশ রুটেই রয়েছে পুলিশের একাধিক তল্লাশি চৌকি, মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের অবস্থান। তবুও থেমে নেই লেগুনার চলাচল।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালীরা পুলিশকে ম্যানেজ করেই সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে লেগুনা।

ইকবাল নামের এক লেগুনার হেলপারের সঙ্গে কথা এ বিষয়ে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘নেতা আর পুলিশ, সবাইকে ম্যানেজ করেই লেগুনা চালাচ্ছি। প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা দিতে হয় এদের, এরপর চলাচলের অনুমতি।’

এতো টাকা দিয়ে কেন চালাতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লেগুনা না চালালে আমরা খাবো কি? লেগুনা চালিয়েই দু’মুঠো খাচ্ছি।

বিমান বন্দর সড়কে গত ২৯ জুলাই এক সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজপড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময় সড়ক ব্যবস্থাপনার নানা অনিয়ম চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন তারা। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় থেকে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে আসে ১৭টি নির্দেশনা।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ঢাকার মূল সড়ক দিয়ে অবৈধভাবে চলাচলরত লেগুনা বন্ধেরও নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, ‘এগুলোর কোন রুট পারমিট নেই। এতদিন যারা লেগুনা চালিয়েছে, তারা অবৈধভাবে চালিয়েছে। এখন থেকে মূল সড়কে লেগুনা চলতে দেয়া হবে না।’

ঢাকাবাসীকে ট্রাফিক আইন মানতে নানাবিধ উদ্যোগও নেয়া হয় ডিএমপির পক্ষ থেকে। পুলিশকে সহায়তা করতে সড়কে অবস্থান নেন রোভার স্কাউটসহ স্বেচ্ছাসেবকরা। কিন্তু গত ৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনের ঘোষণার পর ফের রাজধানীর প্রধান সড়ক দিয়ে লেগুনা চলাচল শুরু হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েই এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর আদাবর, আসাদগেট, ফার্মগেট, শেরেবাংলা নগর, মিরপুর-২, মিরপুর-১০, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, গুলিস্তান ও বাড্ডা এলাকা ঘুরে লেগুনা চলাচল করতে দেখা যায়। আগের মতোই অনেক লেগুনায় চালকের আসনে দেখা যায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের। তবে শ্যামলী থেকে মহাখালী, গাবতলী ও মিরপুর-১ থেকে মহাখালী এবং মোহাম্মদপুর থেকে বাড্ডা রুটে কোন লেগুনা চলতে দেখা যায়নি।

গত মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) মোহাম্মদপুর বাসস্থানে কথা হয় এক লেগুনা চালক মোঃ মমিনের সাথে। তিনি বলেন, ‘লেগুনা থেকে পাওয়া লাভের টাকার ভাগ পুলিশ পায় বলেই তো কেউ বাধা দেয় না।’

এ বিষয়ে হিউম্যান হলার সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উত্তরের সভাপতি মোঃ মোস্তফা বলেন, আমরা পুলিশের কাছে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি উত্থাপন করেছি। কারণ কোন ধরনের সতর্কতা বা পূর্ব নির্দেশনা ছাড়াই হঠাৎ লেগুনা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করেই কোথায় কোথায় লেগুনা চলবে, আর কোথায় চলবে না, তার পর্যালোচনা চলছে। ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনাগুলো ট্রাফিকের ডিসিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মূল সড়কে লেগুনা বন্ধের নির্দেশনার পরও যারা চালাচ্ছেন তাদেরও তালিকা হচ্ছে। যদিও রাজধানীতে লেগুনা বন্ধ হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে। তবে সেটা সাময়িক। খুব শিগগিরই সব রুটে ভালো বাস নামিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করা হবে বলে তিনি জানান।

উপরে