ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৫৫
মনোনয়ন দৌড়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরুকে পিছনে ফেলতে মরিয়া

নরসিংদী পৌর মেয়র মোঃ কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল

ভোরের বাংলা ডেস্ক
নরসিংদী পৌর মেয়র মোঃ কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল

গত ২০১১ সালের ১ নভেম্বর নরসিংদী পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র ও নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  প্রয়াত লোকমান হোসেন মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর, পৌর নির্বাচনে নিহত লোকমান হোসেনের প্রতি পৌরবাসীর আবেগকে কাজে লাগিয়ে জয়ী হওয়া, তারই আপন ভাই বর্তমান মেয়র মোঃ কামরুজ্জামান, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-১ আসন থেকে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন, আওয়ামী লীগের মনোনয়নের টিকিট পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। তার এ নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নরসিংদী-১ আসনে শুরু হতে যাচ্ছে রাজনীতির নতুন মেরুকরণ। স্থানীয়ভাবে একজন চিহ্নিত মাদকস¤্রাট হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, শুধুমাত্র অবৈধপথে উপার্জিত কালো টাকা এবং নিজস্ব পোষা সন্ত্রাসী বাহিনীর পেশীশক্তি এবং সহোদর ভাইয়ের খুন হবার মতো স্পর্শকাতর বিষয়টিকে পুঁজি করে, নরসিংদী-১ আসনের ব্যাপক জনপ্রিয় সংসদ সদস্য, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু (বীর প্রতীক)কে নির্বাচনী দৌড়ের ট্র্র্যাকে ল্যাং মেরে ফেলে দিতে প্রাণপণে ছুটছে সে। একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানায়, যে কোন প্রকারেই হোক আওয়ামী লীগের মতো একটি জনপ্রিয় দলের মনোনয়ন পেতে মেয়র  মোঃ কামরুজ্জামান যা কিছু করণীয় তার সব কিছুই করবেন। ইতোমধ্যে সে লক্ষ্যে তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন বলেও জানায় কেউ কেউ। এহেন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের একাধিক ত্য্গী, নিবেদিত নেতৃবৃন্দ জানায়,  সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত প্রতিমন্ত্রী হিরুকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হিসেবে দেখার আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী,সমর্থকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। খেটে খাওয়া,মেহনতি গণমানুষের মুখপত্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান হিরু (বীর প্রতীক) সম্পর্কে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নরসিংদী-১ আসনের উন্নয়নে তার কোনও বিকল্প আজ পর্যন্ত কেউ ভাবতে পারেনি। স্কুল,কলেজ,মসজিদ,মাদ্রাসা,মন্দিরসহ ভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্র্মীয় উপাসনালয় থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট,ব্রীজ-কালভার্ট,বাজারসহ গ্রামীন অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ এমন কোনও সেক্টর নেই যেখানে তাঁর হাতের জাদুকরী ছোঁয়া না লেগেছে। বর্তমান সরকার প্রধান তথা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতীব আস্থাভাজন হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই, নরসিংদী -১ আসনের জনগনের ভাগ্যোন্নয়নে সর্বদা কাজ করে যাওয়া মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হলেও, তাঁর এক সময়ের শিষ্যই এখন তাঁকে তার আসনচ্যূত করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে,  প্রতিমন্ত্রী হিরুর কমী-সমর্থকদেরকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে দু’হাতে টাকা উড়াচ্ছে কামরুজ্জামান, ক্ষেত্রবিশেষে কেউ টাকা কিংবা বিভিন্ন উপহারসামগ্রী গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তাদেরকে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিরু এবং পৌর মেয়র সম্পর্কে তুলনা করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ভোটার উল্লেখ করেন, মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মোঃ কামরুজ্জামান ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে গিয়ে, নরসিংদীর তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামানের সাথেও দ্বন্ধে জড়ান, কারণ আবু হেনা মোরশেদ জামান পৌর মেয়র কামরজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি গোপন প্রতিবেদন প্রেরণ করেন, যেখানে পৌর মেয়র মোঃ কামরুজ্জামানকে একজন ক্ষমতালোভী, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। সাধারণ জনগনের নিকট মুর্তিমান আতঙ্ক মোঃ কামরুজ্জামান এখন বোল পাল্টে জনদরদী হিসেবে নিজেকে জাহির করে বেড়াচ্ছেন। পক্ষান্তরে প্রতিমন্ত্রী হিরু তার বন্ধুবাৎসল্য, আন্তরিকতা, নিজের উপর অর্পিত দায়িত্বের প্রতি শতভাগ নিবেদিত থাকা, এলাকার উন্নয়নে সদা সচেষ্ট হওয়ার মানসিকতা,নিজ নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও জেলার অসহায়,নিরীহ মানুষের পাশে ছুটে গিয়ে তাদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। নরসিংদী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেতে মরিয়া মোঃ কামরুজ্জামান শিল্পাঞ্চলখ্যাত এলাকাটিতে, অপেক্ষাকৃত তুলনামূলকভাবে দরিদ্র শ্রেণীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে, তাদেরকে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা করে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমান করে, আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মেয়র মোঃ কামরুজ্জামানের অপকর্ম সর্বজনবিদিত হলেও, যে সমস্ত খেটে খাওয়া-দিন মজুররা নিজেদের কাজ করা নিয়ে ব্যস্ত তাদের অনেকের সাথেই আলাপকালে জানা যায়, মোঃ কামরুজ্জামান রাতের আঁধারে তাদের কাছে গিয়ে সমর্থন আদায়ের জন্য আকুতি-মিনতি করা ছাড়াও বর্তমান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিরুর সম্পর্কে কুৎসা রটাতেও পিছপা হচ্ছেনা সে নিজে এবং তার তল্পিবাহক, তোষামোদকারীরা। প্রকাশ্যে গনসংযোগ না করে গোপনে গোপনে সে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। এতে করে নরসিংদী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মাঝে দেখা দিয়েছে দ্বন্ধ, কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে  স্থানীয় আওয়ামীলীগ। দ্বন্ধ এতোটাই প্রকটাকার ধারণ করেছে যে, যেকোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো ঘটনা। এ ঘটনাকে পূঁজি করে বিএনপি-জামাত জোট বঙ্গবন্ধুর নৌকাকে ডুবানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও জনশ্রæতি রয়েছে।  জেলায় মাদকের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে পরিচিত মোঃ কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল একসময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সাথে সখ্যতা স্থাপনের চেষ্টা করেও মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসীদের সাথে তার হট কানেকশন থাকায় তা ব্যর্থ হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে, নিজেই এখন নরসিংদী-১ আসনে আওয়ামী লীগের তুমুল জনপ্রিয় এবং কর্মীবান্ধব অবিসংবাদিত নেতা হিরুর সাথে প্রতিদ্বন্ধিতায় লিপ্ত হবার গোপন মনোবাসনা ব্যক্ত করে চলেছে বলেও মন্তব্য করে অনেকেই। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে অনেকেই তাদের “প্রিয় হিরু ভাই”য়ের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে, পৌর মেয়র মোঃ কামরুজ্জামানের কূটচক্রান্ত থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার পরামর্শও প্রদান করেন। এছাড়া তারা নরসিংদী-১ আসনে আওয়ামীলীগের বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য, দলটির প্রধান বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী শেখ হাসিনার নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নজরুল ইসলাম হিরুর (বীর প্রতীক) হাতে নৌকাল হাল ধরার দায়িত্ব অর্পণ করার।     

 

 

 

উপরে