ভয় পেও না, সবসময় পাশে আছি: আমজাদ হোসেনের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী
ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন দেশ বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেন। একাধিকবার জাতীয়ভাবে স্বীকৃত এই নির্মাতার চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার দুপুরে আমজাদ হোসেনের ছোট ছেলে সোহেল আরমানকে প্রধানমন্ত্রী তার অফিসে ডাকেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সোহেল আরমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পিএস খোরশেদ ভাইয়ের কলে সকালে ঘুম ভেঙেছে।
‘এই তো প্রেম’ ছবির পরিচালক সোহেল আরমান বলেন, তখন ফোনে বলা হয়, ম্যাডাম(প্রধানমন্ত্রী) কথা বলবেন। দ্রুত চলে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে মন্ত্রী মির্জা আজম সাহেবও সাহায্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য স্পেশাল পাশ দেওয়া হয়েছিল আমাদের। এজন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। অবাক হয়েছি যে, প্রধানমন্ত্রী এতো আন্তরিক হয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সকালে পত্রিকায় দেখেছেন বাবার অসুস্থাতার খবর। তারপর গোল মার্কস করে রেখেছেন বাবার বিভিন্ন সংবাদগুলো। এরপর তিনি তার প্রটোকলকে নির্দেশ দেন, আমজাদ সাহেবের ছেলেদের ডাকো।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশ হোক দেশ হোক চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিলাম। সব ধরণের দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন। তার মমতামাখা কথা শুনে ও বাবার প্রতি আন্তরিকতা দেখে চোখে পানি ধরে রাখতে পারিনি। তারপর প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকে ওনার টেবিল থেকে টিস্যু দেন, চোখের পানি মোছার জন্য। তখন তিনি আমাদের উদ্দ্যেশ্যে বলছিলেন, ‘তোমরা কেউ ভয় পেও না, সবসময় তোমাদের পাশে আছি।’
সবাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। কিন্তু আমার বাবার ক্ষেত্রে উনি নিজেই ডেকেছেন। এটাই বাবার জন্য সবচেয়ে বড় কৃতিত্বের। কারণ, বাবাকে তিনি সম্মান দিয়েছেন। এজন্য তার কাছে কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি।
গত রবিবার সকালে নিজ বাসভবনে আমজাদ হোসেন ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই তিনি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা নিউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার শহিদুল্লাহ সবুজ জানান, আমজাদ হোসেনের ব্রেনে যে স্ট্রোক হয়েছে, সেটা রক্তনালী বন্ধ হওয়ার স্ট্রোক। এর আগে তার হার্টের রিদমে অসুবিধা ছিল। সেখান থেকে স্ট্রোকের উৎপত্তি হয়েছে, ব্রেনের দুপাশেই বড় রক্তনালী বন্ধ হওয়ার স্ট্রোক হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বিপদ মুক্ত হওয়ার চান্স খুবই কম।
আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় জনপ্রিয়তা পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।
বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া নানামাত্রিক কাজের জন্য ১৪ বার জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। একইসাথে বাংলা একাডেমী পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
