পাল্টে গেছে সচিবালয়ের চিত্র
শরিফুল ইসলাম। সচিবালয়ে দর্শনার্থী গেটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের সামাল দিতে প্রতিদিনই তাকে বেগ পেতে হয়। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে তাকে তেমন বেগ পেতে হয়নি।
জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আরে ভাই সামনে নির্বাচন। আর কত লোক আসবে। বসরাও সচিবালয়ে থাকে না। আর দর্শনার্থীরা আইসা করবে কী। সবাই এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত।’
একই অবস্থা বিরাজ করছে সচিবালয়ের সর্বত্র। দর্শনার্থী তো কমই, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও বিরাজ করছে ঢিলেঢালা ভাব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচন আর এক মাস বাকি। এখন আর সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। শুধু অফিস করা আর কি। এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচনের দিকে। কারণ, এই নির্বাচনে দুই বড় দলই আছে। এটা নিয়ে সবার মধ্যে আগ্রহ আছে।’
বছরজুড়ে কর্মদিবসে সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় থাকে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য থাকে। কিন্তু এখন সেসব তৎপরতায় ভাটা পড়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এখন আসলে সব জায়গায়ই নির্বাচনের একটা ছাপ পড়েছে। সবার মধ্যেই এখন একটু আয়েশি ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সচিবালয়ে এখন আর তেমন সেবাপ্রার্থীরা আসে না।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব বলেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সচিবালয়ে তদবিরকারীদের আসা-যাওয়া এখন কমে গেছে। ফলে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের চিরচেনা রূপ এখন হারাতে বসেছে।’
মন্ত্রীরাও সচিবালয়ে আসা কমিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে, মনোনয়নপত্র জমা দিতে নিজ নিজ এলাকায় ব্যস্ততার কারণে বুধ ও বৃহস্পতিবার বেশির ভাগই যাননি সচিবালয়ে। নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হলে তারা ঢাকায় আসবেন কমই। কেউ কেউ হয়তো আসবেনই না।
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দৈনন্দিন রুটিন কাজ ছাড়া মন্ত্রীরা কোনো নীতিনির্ধারণী কাজও করেন না। ফলে সেবাপ্রার্থীরা চিন্তা করেন এই সময়ে গিয়েও কোনো লাভ নেই। এসব বিবেচনায় সচিবালয় বিমুখ তারা।’
