ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৬:০৯

জাহালম মুক্ত : ভিতর থেকে তালাবদ্ধ থাকে সালেকের বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক
জাহালম মুক্ত : ভিতর থেকে তালাবদ্ধ থাকে সালেকের বাড়ি
আবু সালেকের ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া গ্রামে আলিশান বাড়ি।

দুদকের ভুলে জাহালম বিনা দোষে তিন বছর হাজত বাস করে ছাড়া পেলেও সেই আলোচিত আবু সালেক বছর খানেক ধরে লাপাত্তা। নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ নেই। গ্রামে আলিশান বাড়িতে বাবা-মা ও বোন বসবাস করলেও সারাক্ষণই বাড়িটি ভিতর থেকে তালাবদ্ধ থাকে। তেমন কেউ যায় না ওই বাড়িতে।

সেই আলোচিত আবু সালেক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পর আবু সালেক দুই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে। এর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। আর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সালেকের বাবা-মার বনিবনা না হওয়ায় সালেক গ্রামের বাড়িতে যান না বলে জানায় স্থানীয়রা।

সালেকের পিতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, এসএসসি পরীক্ষার পর ঢাকা চলে যায় আবু সালেক। সংসারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় পরিবারের শাসন মানতো না সালেক। ঢাকায় থাকলেও সালেক পরিবারের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ করতো না।

 

জাহালম মুক্ত : ভিতর থেকে তালাবদ্ধ থাকে সালেকের বাড়ি

 

ওই গ্রামের আনসারুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুর রশিদ জানান, হঠাৎ বড় লোক হয় আবু সালেক। বাড়িঘর কাঁচা থাকলেও আলিসান ঘর নির্মাণ করে সে। গ্রামের বাড়িতে সম্পদ না করলেও বোনের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় টেলিভিশনের শোরুম দেয় সালেক। আর সেখানে বেশ কিছু জমিও ক্রয় করেছে। কিন্তু গ্রামে তেমন আসে না।

আব্দুল কুদ্দুস ছেলের অপকর্মের শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আত্মসাৎ করা টাকা কখনো আমার হাতে দেননি। ওই টাকায় পঞ্চগড়ের বোদায় সম্পদ করেছে।’ সালেকের টাকায় গ্রামে বাড়ি করেনি বলে দাবি করেন আব্দুল কুদ্দুস। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ২০ বিঘা জমি থেকে তিনি সংসার পরিচালনা ও ঘর নির্মাণ করেছে বলে দাবি করেন।

বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুর-এ আলম ছিদ্দিকি মুক্তি বলেন, ‘আবু সালেক একজন চিটার, বাটপার। তার বিরুদ্ধে এলাকাতেও ছোট-বড় অপরাধের নালিশ আছে।’ তিনি সালেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলায় নিরপরাধ জাহালম ৩ বছর জেল খাটে। তথ্য অনুযায়ী, আবু সালেকের (মূল অপরাধী) বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক।

আবু সালেকের ১০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেয়া ঠিকানাগুলোর একটিতেও জাহালমের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা দেয়া নেই। রয়েছে পাশের আরেকটি গ্রামের ভুয়া ঠিকানা। সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ালো জাহালমের।

২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর ঘোড়াশালের মিল থেকে জাহালমকে আটক করা হয়। জাহালম তখন জানতে পারেন, তার নামে দুদক ৩৩টি মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে, তিনি বড়মাপের অপরাধী। পুলিশের কাছে জাহালম বলেন, ‘স্যার, আমি জাহালম। আবু সালেক না।’ ছবিতে দেখতে দুজন একই রকম হওয়া আর দুদকের ভুলের কারণে কোনো অপরাধ না করেও সালেককে ৩ বছর জেল খাটতে হয়েছে।

উপরে