ঢাকা, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:৪৩

সিটি উপনির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে : আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্ক
সিটি উপনির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে : আওয়ামী লীগ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির পক্ষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করবার মতো সকল প্রকার পরিবেশ এবং পরিস্থিতি সবকিছু বজায় থাকা সত্ত্বেও তারা গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া থেকে নিজেদেরকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে তারা নিশ্চয়ই কোন চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, বিরোধী দল বলতে সংসদীয় গণতন্ত্রে যা বোঝায় তা হচ্ছে সংসদের যারা বিরোধী দলকে। সংসদে যে বিরোধী দলটি আছে, সেই বিরোধী দল কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। এর বাইরে একটি রাজনৈতিক দল (বিএনপি) আছে, যাদের একজনের কথা বললেন। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ করবার মতো সকল প্রকার পরিবেশ এবং পরিস্থিতি সবকিছু বজায় থাকা সত্ত্বেও তারা গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া থেকে নিজেদেরকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচনে না এসে বিএনপির কি উপকার হয়েছে তা জানি না। তবে তারা দেশের অগ্রগতিতে কোন ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে নিশ্চয়ই চেষ্টা করছে, এর মধ্য দিয়ে। কিন্তু দেশের জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে এবং জনগণের জনমত শেখ হাসিনার সঙ্গেই আছে। যারা দেশের অগ্রগতি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করবে, জনগণ তাদেরকেই প্রত্যাখান করবে।

ঢাকা দুই সিটি ভোটে ভোটারদের কম উপস্থিতি নিয়ে বিএনপির বক্তব্যের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি তার কারণ উল্লেখ করে বলেন, প্রথমত, মেয়র নির্বাচনটি হলো উপ-নির্বাচন। আবার বাকি যে মেয়াদ আছে তাও একেবারে কম, মাত্র এক বছর। সেই কারণে হয়ত ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কিছুটা কম ছিল। আবার যেখানে কাউন্সিলর প্রার্থীরা আছেন সেখানে কিন্তু ভোটার সমাগম ভাল ছিল। যেখানে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নেই সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। এখানে সিইসির কোন ব্যাপার নাই। সিইসির ব্যাপারে যদি মানুষের আগ্রহ কম থাকত তাহলে তো জাতীয় নির্বাচনেও ভোটার উপস্থিতি কম থাকতে পারত।

উত্তরের মেয়র পদে নৌকার প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কতটুকু আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, এখনো আমরা ফলাফল জানি না। আমরা অবশ্যই আশাবাদী আমাদের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম সাহেব তিনিই বিজয়ী হবেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, ঢাকা সিটিসহ সারাদেশেই যেভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ড হচ্ছে- মানুষ চায় উন্নয়ন এবং অগ্রগতির সঙ্গে থাকতে। তাই আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ যারা ভোট দিয়েছেন তারা উন্নয়ন অগ্রগতি এবং একটি সুন্দর ঢাকা, ভাল ঢাকা হবে সেই ঢাকার জন্যই তারা ভোট প্রদান করেছেন।

ভোটের আগের রাতেই আওয়ামী লীগ সীল মেরে ভোটের বাক্স ভরে রেখেছে- বিএনপির এক নেতার এমন অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমি আসলে এই বক্তব্য সম্পর্কে কোন মন্তব্যে যেতে চাই না। শুধু এইটুকু বললো যে, তাদের এই মন্তব্যটাও সম্ভবত এইভাবে ভোটের রাতেই তৈরি করা হয়ে গেছে, আজকে ভোটে যাই হোক না কেন?

দীপু মনি বলেন, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অনভিপ্রেত কোন ঘটনার সংবাদ পাইনি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে শতকরা ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এজন্য ভোটারসহ নির্বাচন পরিচালনা সংশ্লিষ্ট সকলকে দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। প্রথমেই পিআইবি মহাসচিব শাহ আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও মরহুমের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান তিনি। এছাড়াও ভাষাণটেক বস্তিতে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার, আনোয়ার হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

উপরে