ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০১৯ ১১:০৮
দলীয় প্রধানসহ কাউকেই পরোয়া করেনা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন

ষ্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন


সুজলা-সুফলা-শষ্য-শ্যামলা আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলা আজ তার গৌরব হারাতে বসেছে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী, সন্ত্রাসী মনোভাবাপন্ন, দাম্ভিক ব্যক্তিবর্গের জন্য। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচার-আচরণ আর পেশিশক্তি প্রদর্শনে জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনগন। জাতির বিবেকরূপী যে গণমাধ্যমকর্মীরা সেসব অপকর্মের প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন, তাদের উপরও নেমে আসছে শারিরীক কিংবা মানসিক অত্যাচারসহ মিথ্যা-বানোয়াট মামলার খড়গ। রাজধানীর অদূরে শিল্পনগরীখ্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিভিন্ন কল-কারখানা, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসমৃদ্ধ, ব্যবসাবান্ধব অঞ্চল হিসেবে ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হলেও, নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের নানাবিধ অপকর্মে নাভিশ্বাস উঠেছে শান্তিপ্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসীর। একজন জনপ্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো দেশের প্রাচীনতম একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার পরও, নাজিম উদ্দিনের ন্যাক্কারজনক, বিতর্কিত কর্মকান্ডে ভেস্তে যেতে বসেছে বর্তমান সরকার প্রধান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপসমূহ। সরকারী জমি দখল করে অবৈধ স্ট্যান্ড বানানো, নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন ব্যবসায়ীসহ অন্যান্যের কাছে চাঁদা দাবী, ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান, নিজের বিয়ে সংক্রান্ত অপকর্ম কিংবা পিস্তলের মুখে নিজ সন্তানকে তুলে নেওয়ার মতো অসংখ্য ঘটনা ছাড়াও, এহেন কোনও অপরাধ নেই যা সে করতে দ্বিধাবোধ করে। সর্বশেষ তার হিংস্রতার শিকার হয়েছে একজন গণমাধ্যমকর্মী। নাজিম উদ্দিনের নিজ হাতে গড়া সন্ত্রাসী বাহিনী সে গণমাধ্যম কর্মীর উপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে। পরবর্তীতে উক্ত হামলার ঘটনার প্রতিবেদন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী সে সাংবাদিক গত ১২ মার্চ ফতুল্লা থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন, যার নং-৬৪৯। উল্লেখিত ঘটনায় সে সাংবাদিক নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর একটি আবেদনও করেছেন বলেও জানা গেছে। বহুল আলোচিত সে ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকমহল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ফুঁসে উঠে এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে। স্বনামধন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন কৃষকলীগের সাইনবোর্ডকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, বিভিন্ন অপকর্ম করে যাওয়া নাজিম উদ্দিনের জন্য প্রায়ঃশই বিব্রতবোধ করতে হচ্ছে স্থানীয়সহ, জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কমী-সমর্থকদেরকে। এতে করে সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকণ্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শুধু তাই নয়, নৌপথে চাঁদাবাজি ঠেকাতে এক মন্ত্রীর সাথে ঝগড়া করতে বাধ্য হয়ে “সময়ের বীর” হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টিকারী হারুন অর রশীদের মতো একজন দক্ষ ও চৌকস পুলিশ সুপার (এসপি) নারায়ণগঞ্জে দায়িত্বরত থাকাবস্থায়, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের অপকর্ম চালিয়ে যাবার ধৃষ্টতা “এক যাত্রায় দুই ফল” স্বরূপ বিবেচনা করছে অনেকেই। স্থানীয়দের কাছে নাজিম উদ্দিনের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তারা জানায়, এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দেখা দেওয়া নাজিম উদ্দিনের ভয়ে এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না। উচ্চশব্দে মোটর সাইকেলে হর্ণ বাজিয়ে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী সদলবলে দাপিয়ে বেড়ায় সদর উপজেলার সর্বত্র।  তারা আরোও জানায় নাজিম উদ্দিন তার নেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কেও কটুক্তি করতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধাবোধ করেনা। সে হামবড়া ভাব দেখিয়ে চলাফেরা করতে অভ্যস্ত। তার অশ্লীল গালিগালাজে সকলেই তাকে এড়িয়ে চললেও, নিজেকে সে অঘোষিত সম্রাট বলেই মনে করে। তার বিরুদ্ধাচরণ করলেই তার বাহিনীর হামলা-মামলার শিকার হতে হয়। নাজিম উদ্দিনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার লাগাম টেনে ধরার জন্য প্রশাসনসহ দেশের সফলতম প্রধানমন্ত্রী, মানবতার জননী শেখ হাসিনার নিকট জোর দাবী জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সর্বস্তরের জনগন।

 

 

উপরে