ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ৩১ মার্চ, ২০১৯ ১২:৫১

পুরনো ইঞ্জিনে বাড়ছে না ট্রেনের কাক্সিক্ষত গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
পুরনো ইঞ্জিনে বাড়ছে না ট্রেনের কাক্সিক্ষত গতি

 

পুরনো ইঞ্জিনের কারণে কাক্সিক্ষত গতিতে চলতে পারছে না ট্রেন। ফলে অধিকাংশ সময়ই গন্তব্যে পৌঁছাতে ট্রেনগুলোকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২৭২টি সচল ইঞ্জিন রয়েছে। তার মধ্যে ১৯৪টিরই অর্থনৈতিক আয়ু (২০ বছর) শেষ হয়ে গেছে। আর ৭টি ইঞ্জিনের ৪৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি পুরনো। যদিও বাংলাদেশ রেলওয়ে একাধিক প্রকল্পে নতুন ইঞ্জিন কিনে অবস্থা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে নতুন ইঞ্জিন বহরে যোগ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।  বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে থাকা ইঞ্জিনের ৭১ শতাংশই পুরনো। আর পুরনো ইঞ্জিনের কারণেই কাক্সিক্ষত গতিতে সিংহভাগ ট্রেনই চলতে পারছে না। ব্রড ও মিটার গেজ মিলে গড়ে একটি ইঞ্জিন দিনে প্রায় ১১ ঘণ্টা চলাচল করতে পারছে। যদিও ৫ বছর পরিস্থিতি বর্তমানের তুলনায় বেশ ভালো ছিল। তখন ব্রড গেজে একটি ইঞ্জিন দিনে গড়ে ১৭ ঘণ্টারও বেশি চলতো। বর্তমানে তা ১০ ঘণ্টার সামান্য উপরে নেমে এসেছে। একইভাবে ৫ বছর আগে একটি মিটার গেজ ইঞ্জিন দিয়ে চলাচল করতো প্রায় ১৮ ঘণ্টা, যা এখন ১২ ঘণ্টার নিচে নেমে এসেছে। পুরনো ইঞ্জিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় রয়েছে রেলের পূর্বাঞ্চল। ওই অঞ্চলে মিটার গেজ ইঞ্জিনে ট্রেন চলে। রেলওয়ের বহরে থাকা সচল মিটার গেজ ইঞ্জিনের সংখ্যা ১৭৮টি। তার মধ্যে ১৩৯টিই বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। আর পশ্চিমাঞ্চলে (রাজশাহী) চলা ব্রড গেজ ইঞ্জিনের সংখ্যা ৯৪টি। তার মধ্যে ৫৫টিরই বয়স ২০ বা তার চেয়ে বেশি।
সূত্র জানায়, রেলের পুরনো ইঞ্জিনগুলো ঘন ঘন মেরামতের জন্য কারখানায় নিতে হচ্ছে। মেরামতের জন্য ইঞ্জিন কারখানায় নেয়া স্বাভাবিক কার্যক্রমেরই অংশ হলে তার একটা নির্ধারিত মাত্রা রয়েছে। রেলওয়ের নির্ধারিত মানদন্ড অনুযায়ী প্রতিদিন মোট ইঞ্জিনের ৮০ শতাংশ ব্যবহারের জন্য রাখতে হবে। বাকি ২০ শতাংশ থাকবে সার্ভিসিংয়ে। তবে ২০১৮ সালে সার্ভিসিংয়ে থাকা ইঞ্জিনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মেরামত ও ব্যবহার উপযোগী ইঞ্জিনের অনুপাত নির্ধারিত মানদন্ডের চেয়ে বেশি। ওই বছর লাইনে থাকা মিটার গেজ ইঞ্জিনগুলোর ৪০ শতাংশই প্রতিদিন মেরামতের জন্য কারখানায় ছিল। ব্রড গেজ ইঞ্জিনের পরিমাণ কম হলেও তা রেলওয়ের নির্ধারিত মানদন্ডের চেয়ে বেশি। গত বছর ২৪ শতাংশ ব্রড গেজ ইঞ্জিন প্রতিদিন সার্ভিসিংয়ে ছিল।
এদিকে রেল ইঞ্জিনের গড় কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিংস্টক) শামছুজ্জামান জানান, রেলওয়ের বেশির ভাগ ইঞ্জিনই অনেক পুরনো। সিংহভাগেরই অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে। তারপরও গেুলো নিয়মিত মেরামত করে সচল রাখা হয়েছে। পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকগুলো ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমে এসেছে। আবার যেসব ইঞ্জিনের বয়স তুলনামূলক কম, সেগুলোর কর্মক্ষমতা বেশ ভালো। যেসব ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বেশি, সেগুলো দূরপাল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোয় চালানো হচ্ছে। আর অপেক্ষাকৃত কম কর্মক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনগুলো চালানো হচ্ছে স্বল্প দূরত্ব ও তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ রুটে।
অন্যদিকে ইঞ্জিন সংকটের বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকার কারণেই আজকের বেহাল দশায় চলে এসেছে রেল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেকগুলো নতুন ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  ইতিমধ্যে ৬০টি নতুন ইঞ্জিন কেনার চুক্তি হয়েছে। তার আগেও অনেকগুলো ইঞ্জিন কেনার চুক্তি হয়। ওসব ইঞ্জিন বহরে যোগ দিলে রেল বেহাল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে।

উপরে