মারামারির পর মিলেমিশে অবরোধের ডাক ছাত্রলীগের দুই পক্ষের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ করেছিল মারামারি, তারপর পুলিশ উভয় পক্ষের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে; এখন তাদের মুক্তির দাবিতে দুই পক্ষই অবরোধ ডাকায় অচল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। অবরোধের কারণে গতকাল রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো শাটল ট্রেন এবং শিক্ষক বাস ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। প্রধান ফটকে তালা দিয়ে মিছিল-সমাবেশ করছে ছাত্রলীগের দুই পক্ষই। শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক এই দুই পক্ষই গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, অবরোধের কারণে সকাল থেকে কোনো শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস চলেনি বলে ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। নগরীর ষোলশহরের স্টেশন মাস্টার তন্ময় চৌধুরী বলেন, আন্দোলনকারীরা সকালে বিশ্ববিদ্যালয়গামী প্রথম ট্রেনটির হুইস পাইপ কেটে দিয়েছে। যে কারণে ট্রেনটি বটতলী স্টেশন ছাড়তে পারেনি। নিরাপত্তা না থাকায় পরের ট্রেনগুলোও ছাড়া হয়নি বলে জানান তিনি। ‘বান্ধবীর’ ফেইসবুকে হাসির ‘রিয়েক্ট’ করা নিয়ে গত ৩১ মার্চ সংঘর্ষে জড়ায় শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক গ্রুপ ‘বিজয়’ ও ‘সিএফসি’ কর্মীরা। এই সংঘর্ষে আহত হয়েছিল তিনজন।
সংঘর্ষের পরদিন বিভিন্ন হলে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
তারপর ২ এপ্রিল আবারও সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষ। তখন পুলিশ গিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
ছয়জনের মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি ও সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীরর অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিজয় ও সিএফসি দুই পক্ষ এক হয়ে ক্যাম্পাসে অবরোধের ডাক দিয়েছে। অন্দোলনকারীরা হাটহাজারী থানার ওসি’র অপসারণও দাবি করেছে।
ক্যাম্পাসে মিছিল সমাবেশে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন, সহ-সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় গ্রুপের জাহাঙ্গীর জীবনসহ উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা উপস্থিত আছেন। দুই পক্ষের মারামারিতে গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের মুক্তিসহ চার দফা দাবিতে ডাকা এ অন্দোলনে নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন।
তিনি বলেন, “দলীয় কর্মীদের মুক্তিসহ চার দফা দাবিতে এ অবরোধ ডাকা হয়েছে। এ আন্দোলনে আমাদের নৈতিক সমর্থন রয়েছে। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।”
