ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ১০ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:৫৩

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি দুদক

 

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ে হাজার হাজার মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি। ওসব মামলা নিয়ে দুদকের কর্মকর্তারা চাপের মধ্যে রয়েছে। কারণ সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি না ব্যর্থতায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা যাচাই করছে কমিশন। অবশ্য দুদকের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান-তদন্তে ব্যর্থতা ও গাফিলতির অভিযোগ নতুন নয়। এ বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দুদকের চেয়ারম্যানও একাধিকবার এ নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অনুসন্ধানের জন্য দুদকে গৃহীত যে কোেেনা অভিযোগের অনুসন্ধানের জন্য ১৫ কর্মদিবস নির্ধারিত রয়েছে। তারপর অনুসন্ধান কর্মকর্তা আরো ১৫দিন সময় পান। ওই সময়ে কর্মকর্তারা অনুসন্ধানের অগ্রগতি জানিয়ে একটি অন্তবর্তীকালিন প্রতিবেদন জমা দেন। তারপর কমিশনের পক্ষ থেকে অনুসন্ধানের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে নথিটি আবারো অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে ফেরত পাঠানো হয়। তারপর থেকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। সূত্র জানায়, মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে দুদক কর্মকর্তারা শুরুতে ১২০ কর্মদিবস সময় পান। পরে তা আরো ৬০ কর্মদিবস বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করতে না পারলে কমিশন নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিতে পারে কমিশন। বর্তমানে আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকে নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়া অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। আর ওই ৪ হাজার নথির মধ্যে প্রায় ৩ হাজার নথি সত্যিকারভাবেই অনুসন্ধান বা তদন্তের আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবেই সেগুলো নিয়ে কাজ করছেন। তবে বাকি এক হাজারের মতো নথি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মূলত: সেসব নথিই কমিশনের মাথাব্যথার বিষয়। ওসব নথি যেসব কর্মকর্তা দেখছেন, তাদের যারা তদারক করছেন তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এদিকে দুদকের কর্মকর্তাদের মতে, একটি বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য নির্ধারিত সময়টি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইবাছাইয়ের জন্য সেগুলো সংগ্রহ করতে অনেক সময় লেগে যায়। তাছাড়া অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা, নথিপত্র সংগ্রহ করাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে অনেক সময় লাগে। ফলে অনিচ্ছাসত্ত্বেও সময়সীমার মধ্যে অনুসন্ধাান শেষ করা যায় না। তবে ওই সুযোগে অনেকে অনুসন্ধানে গাফিলতি করে কিংবা ইচ্ছা করে অনুসন্ধান দীর্ঘায়িত করে।
অন্যদিকে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়া ওসব অনুসন্ধান তদন্তের কাজ শেষ করার জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ওই সময়ের মধ্যে যেসব কর্মকর্তা কাজ শেষ করতে পারেননি তারা ও তাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠানো হয়। দুই কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান। যৌক্তিক কারণ ছাড়া যারা ব্যর্থ হয়েছেন তাদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। বৈঠকে দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, কারও ব্যক্তিগত গাফিলতি বা ব্যর্থতার দায় কমিশন নেবে না। যারা ব্যর্থ হবেন তাদেরই এর দায় নিতে হবে।

উপরে