নিরাপদ সড়কের বড় বাধা হতে পারে এ হেড লাইট
সোনাগাজীসহ বিভিন্ন জায়গায় রাতে সিএনজি, অটোরিক্সার ও মোটর সাইকেলের হেড লাইটের সাদা আলোতে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। সিএনজি, মোটর সাইকেল ও অটোরিক্সাসহ অন্যান্য যানবাহনের সার্বিক বিষয়টি প্রশাসনের দেখার কথা থাকলেও, এবিষয়টি তাদের নজরে আছে বলে মনে হয় না। যত্র তত্র অটোরিক্সা তৈরি করে লাগানো হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পুর্ন সাদা হেড লাইট। এই ক্ষতিকারক হেড লাইট ব্যবহার করে রাতের বেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এক শ্রেণীর সিএনজি, মোটর সাইকেল ও অটোরিক্সা চালকরা। আর ক্ষতিকারক এ হেড লাইট ব্যবহার করার দায়ে তাদের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃনুরুল আলম বলেন সিএনজি, অটোরিক্সা বা মোটরসাইকেলের সাদা তীব্র আলো মানুষের চোখে পড়লে প্রায় ১মিনিট চোখে বন্ধ হয়ে থাকে। এই আলোর রশ্মি এতোটাই ক্ষতিকারক যে তাদের চোখের লেন্স নষ্ট করে দিতে পারে। সাদা আলো চোখে পড়ার পর একজন মানুষ ২মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক হতে পারবে না। আলো চোখে পড়ার সাথে সাথে তিনি থমকে দাঁড়াবেন। তিনি বুঝতে পারবেন না যে কোন দিকে তার যাওয়া উচিৎ আর কোন দিকে যাওয়া উচিৎ না। বলা যায় জ্ঞান হারালে একজন মানুষের মধ্যে যে ক্রিয়া প্রক্রিয়া হয় ঠিক সিএনজি, মোটরসাইকেল বা অটোরিক্সার আলো চোখে পড়লে ঠিক তেমনি অবস্থার সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে একজন মানুষ তীব্র আলোর রশ্মি কারণে জ্ঞান হারানো বা মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ারও উপক্রম রয়েছে। দেখা গেছে, বর্তমানে সিএনজি, অটোরিক্সার হলুদ, সবুজ বা অন্যা হেড লাইট ব্যবহার হচ্ছে না। প্রায় সব গুলো সিএনজি বা অটোরিক্সায় ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সাদা হেড লাইট। সব অটোরিক্সার লাইটগুলো সমান্তরালভাবে রাখা হয়েছে। রাতে এসব সিএনজি, মোটর সাইকেল বা অটোরিক্সাগুলো চলার সময় আলো সোজা মানুষের মুখ ও চোখ বরাবর পড়ে। এতে মানুষ দিক হারিয়ে ফেলে। যার কারণে ঘটে দুর্ঘটনা। সব ধরণের গাড়ির হেড লাইটে কালো রং করা বাধ্যতামুলক হলেও কোনো গাড়ি,সিএনজি, মোটর সাইকেল বা অটোরিক্সা কালো রং করা নেই। পথচারিদের একেবারে কাছে দিয়ে চালকরা যানবাহনগুলো নিয়ে যাওয়ার ফলে প্রায় পথচারি সি এন জি,মোটর সাইকেল বা অটোরিক্সার ক্ষতিকারক এই আলোর রশ্মি শিকার হন। ট্রাফিক বিভাগের সূত্র অনুযায়ী রাতে এ পর্যন্ত যতগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে বেশির ভাগই অটোরিক্সা বা বড় যানবহনের আলোর রশ্মির কারণে। রাস্তায় চলতে গেলে সিএনজি, মোটর সাইকেল বা অটোরিক্সা চালকরা মনে করছে পুরো রাস্তাটাই তাদের। পথচারিরা রাস্তায় চলাচল করে এমনটি তাদের মনে হয় না। সোনাগাজীর এক অটোরিক্সা চালক হেলাল বলেন, আমি রাতে গাড়ি চালাই। আমার অটোরিক্সার হেড লাইট নিচু করে রাখা আছে। কিন্তু বর্তমান অধিকাংশ অটোরিক্সা চালকরা উচ্চ সক্ষমতা সম্পুর্ন হেড লাইট ব্যবহার করছেন। যা মানুষের চোখের জন্য ক্ষতিকারক। আরেক অটোরিক্সা চালক রফিক জানান, অটোরিক্সা মোটরসাইকেলের মত কালো রং করা দরকার কিন্তু এব্যাপারে কেউ কিছু বলে না আমরাও তেমন মাথা ঘামাই না। সোনাগাজীর নাছির উদ্দীন জানান, গত দুই মাস আগে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে রাত ১১ টার দিকে ফেনী থেকে সোনাগাজী বাসায় ফিরছিলেন। পথে কুঠির হাট রোডের মাথায়(চিন্তার পুল নামক স্থানে ) বিপরীত দিক থেকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন হেড লাইট লাগানো সিএনজি সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওই সিএন জির আলো এসে পড়ে আমাদের বহন করা সিএনজি চালকের চোখে। এতে তিনি নিয়নন্ত্রণ হারিয়ে পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে পুরো পরিবারের লোকজন আহত হন। তিনি বলেন, বাসায় আসার পরিবর্তে পুরো পরিবারকে যেতে হয় হাসপাতালে। তিনি অভিযোগ করে বলেন বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশ প্রশাসনের দেখার কথা থাকলেও তারা তা যথাযথভাবে দেখে না। এমন অভিযোগ প্রায় পথচারিদেরই। তাই এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
