ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:১২

ভালুকায় ফকির সবুজের কুদরতী কারিশমা - উপচে পড়া ভিড়

প্রশাসনের কড়া নজরদারী
হাফিজুর রহমান
ভালুকায় ফকির সবুজের কুদরতী কারিশমা - উপচে পড়া ভিড়

ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার ৩ নং রাজৈ ইউনিয়নের কুল্লাব গ্রামের মোঃ সায়েদ ফকিরের ছেলে মোঃ সবুজ মিয়া। সবুজের কুদরতী কারিশমায় সাধারণ মানুষ বিস্মিত। দূর-দুরান্ত থেকে আগত উপকারভোগী লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রশাসনের বাধার সম্মুখে হতাশ। বর্তমান আধুনিক যুগে আমরা প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতায় ভুগছি। এই সময়ে আবির্ভাব কুদরতী ক্ষমতা সম্পন্ন তদবির প্রদানকারী ফকির সবুজ মিয়ার । এক অনুসন্ধানে জানা যায়, ভালুকার কুল্লাব গ্রামের অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান এই ফকির সবুজ মিয়া। সবুজের পিতা মোঃ সায়েদ জীবদ্দশায় তিনিও অবিশ্বাস্য সত্যি বাস্তব করেছেন, আল্লাহর বিশেষ রহমতে তিনিও কুদরতী ক্ষমতায় অনেক মানুষের রোগ মুক্তির তদবীর করে সেবা দিয়েছেন। বাল্যকাল থেকে সবুজ তার পিতার এই মানব সেবা দেখতে দেখতে বড় হয়েছে এবং সরল সোজা অক্ষর জ্ঞানহীন জীবন কাটিয়েছেন।পেশায় তিনি একজন কাঠুরিয়া, গাছ কাটা ও স’মিলে বিক্রি করা থেকেই সংসার চলে তার। ফকির সবুজ মিয়ার পিতা কায়িকভাবে দুর্বল হয়ে আস্তে আস্তে শক্তিহীন হয়ে পড়ে, তাই ২০১৬ সালে সবুজ সংসারের পুরো দায়িত্ব কাধে নিয়ে নেন। খুব হতাশাপুর্ন জীবন কাটছিল তখন, এই সময়ে সবুজের জীবনে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে গেল। সরলতা, সোজাসাপটা জীবন যাপন রহমতে পরিনত হলো। আল্লাহ তায়ালা সন্তুস্ট হয়ে সবুজের কলবে এক কালাম উপলব্ধী করার ক্ষমতা দিলেন, যা দ্বারা মানবের রোগ মুক্তির তদবীরের সেবা করতে পারেন। সবুজের বক্তব্য, আমার উপর আল্লাহর হুকুম আসলো আমি যেন বিনা স্বার্থে বিনা অর্থে এই সেবা প্রদান করি। সবুজ সেই ২০১৬ থেকে আজ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের বিনা অর্থে বিনা স্বার্থে রোগ মুক্তির সেবা করে আসছে। অনুসন্ধানে আরো অজানা সত্য বেরিয়ে এলো, সবুজের বিনা অর্থে এই সেবা প্রদানের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত এক শ্রেনী লোকের ভাল লাগছিল না, স্বল্প জায়গায় এক মজমায় যেন জনস্রোতের মতো, তাই স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল এই বিশাল জন সমাবেশ থেকে বিভিন্ন ভাবে অর্থ আত্মসাতের ফন্দি ফিকির শুরু করে, তখন সবুজ সরাসরি এগুলো করা যাবেনা ঘোষণা দিলেন, স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহলের স্বার্থ উদ্ধার হলো না তাই এই মহল সবুজের মজমা ও সেবা বন্ধের অপচেস্টা চালাতে শুরু করে, সবুজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উচ্চ মহলে কুৎসা রটনা রটিয়ে সবুজের এই মহৎ জন সেবাকে ব্যহত করার নীল নকশা করে চলছে। সবুজ তার অঙ্গীকারে অনড় থাকেন। সবুজের কাছে স্হানীয় প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহল প্রস্তাব পাঠায় এই সেবাগ্রহনকারী সকল লোকের কাছ থেকে মোটা অংকের হাদিয়া নিতে হবে এবং আমাদের অর্ধেক ভাগ দিতে হবে ! সবুজ ফকির এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্রত্যাখানের পর থেকেই জোর জবরদস্তি করে মজমা বন্ধের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো এলাকার প্রভাবশালী চক্র। তাই সবুজ ফকির স্হানীয় চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন কিন্তু প্রশাসন ও স্থানীয় নেতা বর্গের কাছ থেকে কোন নেতিবাচক সাড়া না পেয়ে সবুজ ফকির গত সপ্তাহ থেকে মজমা বন্ধ করে দিলেন। কারণ জানতে চাইলে সবুজ ফকির বলেন , এতো মানুষের সমাগম আমি গরিব মানুষ কিভাবে নিরাপত্তা দিবো তাই আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করি যদি সরকারীভাবে কোন নিরাপত্তার ব্যাবস্হা সাহায্য পাই তাহলে আমি সবুজ ফকির বিনা অর্থে নিঃস্বর্থভাবে সেবা দিবো যেন মানুস উপকার পেতে পারে। আমদের অনুসন্ধানি টিম আগত রুগিদের সাক্ষাতকার থেকে জানতে পারি এক নারী দীর্ঘ নয় বৎসর যাবত শ্বাস কস্টে ভুগছেন কিন্তু সবুজের তদবিরে এখন সম্পুর্ন সুস্হ্য তারপর আরো জানতে পারি, চট্রগ্রাম থেকে আগত এক স্কুল শিক্ষক তিনি তার স্ত্রীর জন্য লোক মারফতে শুনে এখানে এসেছেন তিনি তার সাক্ষাতকারে বলেন, সত্যি আশ্চর্যের বিষয় এক বোতল পানী আর এক বোতল সরিষার তেল দিয়ে রোগ মুক্তি সত্যি আশ্চর্যে রবিষয়। তিনি বললেন তার স্ত্রী এখন সুস্থ্য এরপর সবুজের মজমায় পেলাম সাপ্তাহীক তালাশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদককে। তার কাছে জনতে চাইলাম আপনি এখানে কেন এসেছেন। তিনি চমৎকার হাসিমাখা মুখে বলেন, ভাই আমার স্ত্রীর এক হাত দিয়ে কোন ভারি কাজ করতে পারতো না কয়েক সপ্তাহ আগে সবুজ ভাইয়ের তদবীর নিয়ে এখন আল্লাহর রহমতে সম্পুর্ন সুস্হ্য। আমি আজ এখানে ধন্যবাদ জানাতে এসেছি। এইভাবে অনেক কে আমরা দেখেছি সুস্থ্যতার পরে ধন্যবাদ জানাতে হাজার হাজার মানুষ আসছে তদবীর নিতে। আমরা আমাদের অনুসন্ধানে পুংখানু পুংখানুভাবে খতিয়ে দেখি, সবুজ ফকির সত্যি কোন স্বার্থ ছাড়াই নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সবুজের রুগি সুস্হ্য করার ধরন এমন তিনি দ্বীনের পথে মানুষকে আহ্বান করছেন বলে মনে হয় এবং খুব ভাল করে লক্ষ্য করলেই বুঝা যায় সবুজের এটাই মূল মন্ত্র, মুল লক্ষ্য। সবুজ ফকিরের এতো জন সমুদ্রের মতো জন সমাবেশ শৃংখলাবদ্ধ রাখার পিছনে যারা ছিল তাদেরও দেখা পেলাম। তাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম তারা সম্পুর্ন নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছায়, নিজ খরচে সবুজ ফকিরকে ভালবেসে এই স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে থাকি, এতে আমরা আল্লাহর কাছ থেকে যা পাওয়ার পাবো এতেই আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই আপনাদের মাধ্যমে সরকার আমাদের সবুজ ভাইয়ের এই সেবা কাজ যেন করতে পারে তার জন্য সরকারীভাবে নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করলে, আমরা ও লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকার পাবে। এই সেবা যেন অব্যাহত থাকে এটাই আমাদের আবেদন।

উপরে