ঘরের ছেলের ঘরে ফিরে আসার প্রতীক্ষায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে।’
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার রূপক কবিতায় দেশরূপী মাতাকে সম্বোধন করে, লিখেছিলেন, তার এ কালজয়ী চরণ দু’টি। ছেলে হিসেবে তিনি দেখেছিলেন বাংলা মাতার দামাল ছেলেদেরকে, যারা কোনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে শিখেনি, শিখেনি নীতিকে বিসর্জন দিতে। অলসতা ঝেড়ে যে ছেলেরা জাগলেই স্বর্ণালী ভোর আসে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির রাজনীতির আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র স্বরূপ তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেরাইদ (৪২ নং ওয়ার্ড) ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে, নিজ দলের স্বপদে ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়েই কাটতে পারে রাজনৈতিক অচলাবস্থা। ইতোমধ্যেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে ৪২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাশেদ ছাড়াও, ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০৪ জন নেতা স্বাক্ষর করেছেন যা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হয়েছে। তারা তাদের অভিভাবকসম প্রিয় নেতা মাহফুজুর রহমানের স্বপদ ফিরে পাবার আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুণে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ষাট বছর বয়সী প্রবীণ যে নেতা, জীবনের ৩৮টি বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ঝান্ডা উচ্চে তুলে ধরে, প্রায় অর্ধডজন রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে রাজনীতিতে এখনও সক্রিয় রয়েছেন, তাঁর মতো একজন ত্যাগী, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতার বহিষ্কারাদেশ যেনো কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি তথা ৪২ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কমী-সমর্থকবৃন্দ। তাদের কাছে মাহফুজুর রহমান এবং ধানের শীষ প্রতীক যেনো একে অন্যের পরিপূরক। এক নিবিড় অনুসন্ধানে উঠে আসে, কতটা ভালোবাসলে মানুষ মানুষের জন্য চোখের জলে বুক ভাসাতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক বর্ষীয়ান নেতা আফসোস করে বলেন, ‘মাহফুজুর রহমানের মতো একজন দক্ষ নেতা যদি এমন কদর্যভাবে দলীয় কোন্দল, ষড়যন্ত্রের শিকার হয় তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে কি হতে পারে? নতুন প্রজন্ম কি বার্তা পাবে ভবিষ্যতে?’ দলীয় হাইকমান্ডকে এ ব্যাপারে আরোও কৌশলী হওয়ার প্রয়োজন ছিলো বলেও মনে করেন তিনি। বিএনপির চরম দুঃসময়ে, জাতীয় নির্বাচনের সময় যে নেতা জীবনের মায়া ত্যাগ করে, জেল-জুলুমকে পরোয়া না করে, বিএনপির পতাকাতলে থেকেছেন অকুতোভয় সিপাহসালারের ন্যায়, তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কোনও বিকল্প দেখছে না রাজনৈতিক বোদ্ধারা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, মাহফুজুর রহমানের কোনও বিকল্প নেই। তিনি নিজ পরিবারের চেয়ে দলকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে দলের আস্থাভাজন হয়েছেন। অথচ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ালেও, যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাহফুজুর রহমান তাঁর নীতিতে অটুট থেকেছেন, দলের সম্মানহানী হয় এমন কোনও কাজ করেননি বলেই তাঁর উপর নেমে এসেছে বহিষ্কারাদেশ, যা নেতাকর্মীদের মনোবল শুধু ভেঙ্গেই দেয়নি, ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির চেইন অব কমান্ডই যেনো দৃশ্যত ভেঙ্গে পড়েছে। স্থানীয় অধিকাংশ নেতাকর্মীই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘ বর্তমানে বিএনপিতে নব্য যোগদানকৃত বিএনপি নামধারী, সুযোগসন্ধানী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তুহিনুর ইসলাম তুহিনের যোগসাজোশে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নের্তৃবৃন্দের নির্দেশে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে যেনো ত্বরান্বিত করতে না পারা যায়, তাই তাকে দলের বাইরে রাখার প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কুশীলবদের কলকাঠিতে কানভারী করা হয়েছে দলীয় হাই কমান্ডের। নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে, কিংবা কেউ কেউ যখন বিদেশে পাড়ি জমিয়ে দলকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন, দলের চরম দুর্দিনে পিঠটান দিয়েছে, তখন মাহফুজুর রহমানের সঠিক দিক নির্দেশনায় তারা যেকোন পরিস্থিতিতে একতাবদ্ধ থেকেছেন। আর সে কারনেই মাহফুজুর রহমানকে ক্ষমতাসীনদলের এতো ভয়। নিজ দলের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের লেজুরবৃত্তি করে ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার ঘৃণ্য কৌশল অবলম্বনকারীদের দৌরাত্মে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। দলের আদর্শের সাথে বেঈমানী করে একজন সৎ নেতাকে পথের কাটা মনে করে, তাকে সরিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে দুর্বল করতে কাজ করছে একটি চক্র। বিএনপির ইমেজ নষ্ট করতে বিএনপিরই কিছু কুলাঙ্গারদের ব্যবহার করার সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বর্তমানে মাহফুজুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া না হলে তৃণমূলে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।’ তাই মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে তারা আকুল আবেদন জানিয়েছে প্রয়োজনে যথাযথ গোপনীয়তা রক্ষা করে অধিকতর সঠিক তদন্তপূর্বক যোগ্য নেতা, বিএনপির দু’র্দিনের কান্ডারী মাহফুজুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ আশু প্রত্যাহার করা হোক। তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে ফিরিয়ে আনা হোক দলে, প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা হোক ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনে। মাহফুজুর রহমানের বলিষ্ঠ নের্তৃত্বে আবারও কেঁপে উঠবে ঢাকা মহানগর উত্তর তথা ঢাকার রাজপথ, গতি ফিরে আসবে স্থবির হয়ে পড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সকল কার্যক্রমে এমনটিই প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের।
