ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ৮ মার্চ, ২০২০ ২০:২৯

গাজীপুরে উচ্ছেদকৃত সরকারী সম্পত্তি পুনরায় বেদখল হয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই

বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরে উচ্ছেদকৃত সরকারী সম্পত্তি পুনরায় বেদখল হয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই

ঢাকার অদূরে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে তিন কিলোমিটার এর মধ্যে ঢাকা-কোনাবাড়ী-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশের্^, নাওজোড় মৌজায় অবস্থিত প্রায় ৩৭৫ শতাংশ সরকারী সম্পত্তি  (জেএল নং-৯২/৪৬) রয়েছে, যা ১৯৫২ সাল থেকেই কিছু অর্থলোভী, ভূমিদস্যূ, স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে ছিলো। গত বছর ২১ এবং ২২ অক্টোবর তারিখে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গাজীপর অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদকল্পে অভিযান পরিচালনা করে, পূর্বে লাল চিহ্নিত করা সরকারী সম্পত্তির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সম্পদ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে বাকি অংশটুকু উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করার কথা থাকলেও, কোনও এক অদৃশ্য কারণে তা আর করা হয়নি বলে জানায় স্থানীয়রা। দীর্ঘ প্রায় পাঁচমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও উদ্ধারকৃত সম্পত্তিতে কোনও কাটাতারের বেড়া নির্মান কিংবা কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে, পুনরায় সে সম্পত্তিতে ভাসমান দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করে দখলে রাখার ফলে, সরকারী সম্পত্তিটি পূর্বের ন্যায় বেদখল হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলেও জানায় তারা। সরেজমিনে এক তথ্যানুসন্ধানে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উচ্ছেদকৃত সম্পত্তির উপরে ভাসমান টং দোকান স্থাপন করা হয়েছে। উচ্ছেদকৃত অংশের উপর বিভিন্ন পন্যের পসরা সাজিয়ে বসে দেদারসে, নির্বিঘেœ বেচাকেনা করছে কেউ কেউ। রশি দিয়ে ঘের তৈরী করে নিজেদের ব্যবসাস্থল কিংবা দোকানপাটের জায়গা নিজ দখলে রাখার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে কেউ কেউ। এ প্রসঙ্গে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুদ্দিন আহমেদের সাথে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে, উদ্ধারকৃত সরকারী সম্পত্তিটি পুনরায় দখল হয়ে যাবার আশংকার কথা উল্লেখ করে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, প্রত্যেকবারই তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করে জানান, ‘খুব শীঘ্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ সর্বশেষ গতকাল তার মুঠোফোনে এ বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘আমরা এ মাসেই ব্যবস্থা নেবো। যদি তা আপনার মনঃপূত না হয়, তাহলে আপনি পত্রিকায় আপনার ইচ্ছেমতো লিখতে পারেন।’ স্থানীয়দের জোর দাবী সরকারী এ মূল্যবান সম্পত্তিটি রক্ষায় কেনো কালক্ষেপণ করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হোক, কিংবা এর পেছনে যদি কেউ থেকে থাকে তা তদন্তকরে এখনই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।  

উপরে