তৃণমূলের দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি জুড়ে
‘আগুন এবং বিবাদকে যত বাড়তে না দেয়া যায়, ততোই মঙ্গল।’
পুরনো এই প্রবাদটি যেনো বাস্তবেই পরিলক্ষিত হচ্ছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে। নিজ দলের গৃহদাহে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি দৃশ্যত যেনো পুড়তে বসেছে । মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেরাইদ (৪২ নং ওয়ার্ড) ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের বহিষ্কারাদেশের মধ্য দিয়ে এ পোড়ানোর ধোঁয়ার সূত্রপাত, যা ক্রমাগত কুন্ডলী পাকিয়ে ছেয়ে ফেলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র রাজনীতির আকাশ। এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা বিএনপির মতো একটি বড় দলের জন্য মোটেই সুখকর নয় বলে মনে করেন অনেকেই। সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানকালে জানা যায়, বিএনপিকে ভালো বেসে মামলা-হামলা, হুমকীর শিকার জনপ্রিয় নেতা মাহফুজুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করার আদেশ ঘোষণার পরপরই, ক্ষোভে ফেটে পড়ে বেরাইদসহ (৪২ নং ওয়ার্ড) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কমী-সমর্থকবৃন্দ। তাঁর মতো একজন ত্যাগী, বিনয়ী, সুদক্ষ, সদালাপী নেতার মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রাপ্তিকে কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেনা স্থানীয় বিএনপি তথা যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, কৃষকদলসহ অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতীম অঙ্গ সংগঠনসমূহ। মাহফুজুর রহমানের বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে দলের পূর্বোক্ত পদে আসীন করে, দলীয় সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিকট জোর দাবী জানিয়েছে ৪২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাশেদ ছাড়াও, ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০৪ জন নেতা। অদ্যাবদী ঘোষিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে না নেওয়ার ফলে, স্থানীয়ভাবে নেতা-কর্মীর মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা, দ্বিধা-দ্বন্ধ, দলীয় কোন্দল যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। নিজেদের মধ্যে চরম ভুল বোঝাবুঝি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে করে তুলছে দুর্বল থেকে আরোও দুর্বলতর। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আফসোস ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তুহিনুর ইসলাম তুহিনের যোগসাজোশে, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সাথে গোপনে আঁতাত করে, আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন হয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্তরাই মহাসচিবকে দিয়ে মাহফুজুর রহমানকে বহিষ্কার করাতে সক্ষম হয়েছে। এতে করে ঢাকা মহানগর উত্তরে নের্তৃত্বের সংকট দেখা দিয়েছে।’ তারা আরোও অনুযোগ করেন, যে নেতা বিএনপি তথা ধানের শীষ প্রতীককে ধ্যান-জ্ঞান মনে করে জীবনকে দলের জন্য উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত, তাঁকেও যদি এভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রাপ্ত হতে হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা মহানগর উত্তরে কেউ নের্তৃত্ব দিতে এগিয়ে আসবে বলে মনে হয়না। এতে করে শতভাগ লাভবান হবে আওয়ামী লীগ। শুধু স্তিমিত নয়, গতি হারাবে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে নস্যাৎ কিংবা ব্যাহত করার যে নীল নকশায় তুহিনুর ইসলাম তুহিনকে দিয়ে গোপনে কলকাঠি নাড়ানো হচ্ছে, প্রকারান্তরে তা সফল হবে। ইতোমধ্যেই তার সূত্রপাত হয়ে গেছে। ধোঁয়ার কুন্ডলীর নিচে যে চাপা আগুন তা যে কোনও মুহূর্তে সবকিছু শেষ করে দিতে পারে। তৃণমূলের কাছে মাহফুজুর রহমান ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ কোনও নেতা নন। জীবনের ৩৮টি বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র হয়ে রাজনীতি করে, প্রায় অর্ধডজন রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে তিনি রাজনীতিতে এখনও সক্রিয় রয়েছেন। বিএনপি’র প্রতি তাঁর ভালোবাসায় নেই বিন্দু পরিমাণ খাঁদ। তাই দলে নব্য যোগ্যদানকৃত কেউ যদি দলীয় হাইকমান্ডের কানভারী করার সুযোগে, একজন বিশ^স্ত নেতাকে বহিষ্কারাদেশের মতো সম্মানহানীর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে কে আর এগিয়ে আসবে মাহফুজুর রহমানের শূণ্যস্থান পূরণ করতে? যদি ‘ঘরের শত্রু হয় বিভীষণ’ তাহলে দূর থেকে শুধু মুচকি হাসবে প্রতিপক্ষ, আর মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে নিজ দলের ত্যাগী, নির্লোভ কর্মীবাহিনী। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিকট তৃণমূলের নেতাকর্মী ছাড়াও, ঢাকা মহনগর উত্তর বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মাহফুজুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবী জানিয়েছেন। তারা মনে করেন মাহফুজুর রহমানকে এখনই দলে ফিরিয়ে নিয়ে এসে স্বপদে মূল্যায়িত না করা হলে, দলীয় চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। একমাত্র তাঁকে ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়েই প্রাণ ফিরে পাবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। গতি সঞ্চার হবে ঢাকা মহনগর বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের মধ্যে।
