ঘূর্ণিঝড় আম্পান: ব্যাপক প্রস্তুতি চাঁদপুরজুড়ে
সুপার সাইক্লোন আম্পানকে ঘিরে চাঁদপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়। বিশেষ করে দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ বিতরণের জন্যই তাদের এ প্রস্তুতি। তবে জেলার হাইমচর, চাঁদপুর সদর ও মতলব উত্তর নদী তীরবর্তী চর এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নানা পদক্ষেপ। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা আলোচনাতেও বসেছেন।
এ ব্যাপারে এনডিসি মেহেদী হাসান মানিক জানান, আমরা ২টি উদ্ধারকারী নৌযান সচল রেখেছি। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্ধার অনুসন্ধানের জন্য ভলেন্টিয়ার সার্ভিস হিসেবে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ৫০ জন, রোভার স্কাউটের ৪০ জন সদস্য এবং জেলা স্কাউটের ৩৩০ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চর এলাকাগুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রসঙ্গে এনডিসি মেহেদী হাসান মানিক আরও জানান, ১টি নৌ থানা ও ৫টি নৌ ফাঁড়ির মোট ৮১ জন নৌ পুলিশসহ কোস্টগার্ডের ৫০ জন সদস্য উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এর সাথে জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজের জন্য ৮টি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর সদরের অন্তর্গত চরাঞ্চলে ২৭ হাজার ৮৮০ জন, হাইমচরের ২৬ হাজার ২০৪ জন এবং মতলব উত্তরের ২০ হাজার ৮৯৪ জনসহ মোট ৭৪ হাজার ৯৭৮ জনের জন্য ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ রয়েছে। যার মধ্যে সদরে ৩’শ প্যাকেট, হাইমচরে ৫’শ প্যাকেট এবং মতলব উত্তরে ২’শ প্যাকেটসহ মোট ১ হাজার প্যাকেট ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাবেন তাদের জন্য ১’শ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ নগদ টাকা, শিশু খাদ্য কিনতে ১ লাখ টাকা এবং গোখাদ্য কিনতে আরো ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিকে সিভিল সার্জন ডা. শাখাওয়াত উল্লাহ জানান, ঘূর্ণিঝড় সময়ের প্রস্তুতিতে জেলার ৯৩টি ইউনিয়নে ১টি করে এবং ৮ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় ৩টি করে ২৪টিসহ সর্বমোট ১১৭টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের জন্যও প্রস্তুত রয়েছেন।
জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. নুরুল হক জানান, শহরের লোকজনকে নিজ দায়িত্বে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে এবং চরাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে আমরা প্রচারণা অব্যাহত রেখেছি। তবে অবশ্যই যাতে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরে সবাই এই অবস্থান নেয়। সে ব্যাপারেও প্রচারণায় সতর্ক করা হচ্ছে।
এদিকে জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা শাহ্ মুহাম্মদ শোয়েব জানান, ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। যে জন্য চাঁদপুর জেলাকে এখন পর্যন্ত ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আশ্রয় কেন্দ্রে কোন করোনা রোগী ঢুকে পড়ছে কিনা- এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, আমাদের উপকূলীয় ১৮টি ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত কোন করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। তবুও কেউ যাতে করোনার উপসর্গ নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান না করে। সে বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান জানান, সাইক্লোন শেল্টারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুপেয় পানি, খাবার ও আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ গেলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলজিইডিকে বলা হয়েছে যেসব অঞ্চলের লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হবে। সেসব অঞ্চলের সড়ক এবং ব্রিজে কোনো সমস্যা হলে জরুরিভত্তিতে তা মেরামত করতে। এছাড়াও ফেরি পারাপার বন্ধসহ আমরা জরুরি প্রয়োজনে হটলাইন নম্বর চালু করেছি।
