ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ২০ মে, ২০২০ ২১:১৫

আশ্রয়কেন্দ্রে কি স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
আশ্রয়কেন্দ্রে কি স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে ?


করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই হানা দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে তাই উপকূলের মানুষ জড়ো হয়ছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে। কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে কি না সে প্রশ্ন উঠেছে। একারণে করোনা সংক্রামণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দেশে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, তাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এবিষয়ে জানা গেছে, সেখানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা তো দূরের কথা; আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে।
দেশের যেসব জেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানছে তার মধ্যে অন্যতম সাতক্ষীরা জেলা। জেলার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর এলাকার বাসিন্দা জি এম শফিকুল আজম জানান, চার কক্ষের দোতলা একটি ভবন নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রটি তৈরি। সেখানে বুধবার সকাল পর্যন্ত তেমন মানুষ ছিল না। তবে বিকেলে দুর্যোগ থেকে বাঁচতে চার কক্ষেই আশ্রয় নিয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা বসার জায়গা না থাকলেও তখনও আসছিল অনেকে।

একই এলাকায় নারী ও বয়স্কদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা বেশ কয়েক জনের সাথে কথা হয়। এদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছাসেবী সাবিনা পারভীন বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এমনিতে নানা সংকট তো রয়েছেই, সে কারণে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না। আর যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের কাউকেই কোনো মাস্ক দেয়া হয়নি।
এবিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে মোট বাসিন্দার সংখ্যা ৩৭ হাজারের বেশি। আর নিয়মিত ১০টি সাইক্লোন শেল্টারের পাশাপাশি আরো চারটি শেল্টার অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করে মোট ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, ভালনারেবল মানুষদের সাইক্লোন শেল্টারে নেয়া হয়। তবে সাইক্লোন শেল্টারগুলোর যে ডিজাইন তাতে সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব নয়। আর আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে যেহেতু এক সাথে অনেক মানুষ থাকে তাই সেখান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে।

উপরে