ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ৮ জুন, ২০২০ ১৬:২৩

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে পুলিশের সতর্কীকরণ নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে পুলিশের সতর্কীকরণ নোটিশ


লালমনিরহাটে সংবাদ প্রকাশের জেরে রেজাউল করিম রাজ্জাক নামে এক সাংবাদিককে সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠিয়েছে জেলার আদিতমারী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সাংবাদিক নেতাদের মাঝে নিন্দার ঝড় উঠছে।
গতকাল রোববার (০৭ জুন) রাতে তাকে নোটিশ পাঠানো হলে তা গ্রহণ না করে ফেরত পাঠান সাংবাদিক রাজ্জাক।
সাংবাদিক রেজাউল করিম রাজ্জাক ওই উপজেলার বড় কমলাবাড়ি গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে। তিনি দৈনিক খোলাকাগজ পত্রিকার আদিতমারী প্রতিনিধি ও আদিতমারী প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কুমড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজলের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অর্ধডজন সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক রেজাউল করিম রাজ্জাক। সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের জমি দখল নিয়ে স্থানীয় একটি গ্রুপের সাথে বিরোধ বাধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। যা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে। বিদ্যালয়ের জমি দখল হতে পারে মর্মে শনিবার (৬ জুন) ৯ জনকে বিবাদি করে আদিতমারী থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেন কুমড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিজ উদ্দিন। জিডিতে ৭নং বিবাদি করা হয় সাংবাদিক রেজাউল করিম রাজ্জাককে।
জিডিটি আমলে নিয়ে ওই দিনই আদিতমারী থানা পুলিশ সাংবাদিক রাজ্জাকসহ উভয় পক্ষকে সতর্কীকরণ নোটিশ জারি করেন। সেই নোটিশ রোববার (৭জুন) রাতে সাংবাদিক রাজ্জাককে পাঠানো হলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। ঘটনা জানাজানি হলে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে নিন্দার ঝড় উঠে।

সাংবাদিক রাজ্জাক বলেন, স্থানীয়দের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নানান দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে অর্ধডজন সংবাদ প্রকাশ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বিদ্যালয়ের অন্য ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে জড়িয়ে জিডি করেছেন।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারীর আশংকা মতে উভয় পক্ষকে সতর্কীকরণ নোটিশ করা হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তের কেউ জড়িত না থাকলে পরবর্তিতে তদন্তে তার নাম বাদ যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিকের নামে সতর্কীকরণ নোটিশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিক কল্যান ট্রাষ্টের লালমনিরহাট ইউনিটের সভাপতি মাহফুজ সাজু বলেন, ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক ও উদ্দেশ্যমূলক। এ ধরণের ঘটনায় পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উচ্চতর তদন্তের দাবি জানাই।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক আহম্মেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ নোটিশ করার এখতিয়ার রাখেন বলে আমরা বিশ্বাস করি না।
এসময় নোটিশ থেকে সাংবাদিকের নাম বাদ দেয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

উপরে