মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতাল এখন ‘ভুতুড়ে বাড়ি’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রায় ২৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তৈরি ‘ট্রাস্ট আধুনিক হাসপাতাল’। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে এটি এখন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। ১০০ শয্যা বিশিষ্ঠ এই হাসপাতালের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ জনগণও চিকিৎসাসেবা নিতে পারতো। কিন্তু এখন সব কিছুই বন্ধ। মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি করোনার এই দুঃসময়ে হাসপাতালটিকে পুনরায় চালু করার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালটির সব রুমেই তালা লাগানো। ইমার্জেন্সি রুমে চিকিৎসা সামগ্রী অযত্নে-অবহেলায় পরে রয়েছে। হাসপাতালের বারান্দাসহ সব জায়গাতেই ময়লার স্তুপ।
আরো দেখা গেছে, হাসপাতালটির সব রুমেই ৭ থেকে ৮টি বেড রয়েছে। তবে ব্যবহার না করার ফলে সেইসব বেডে ময়লার স্তর জমে গেছে। হাসপাতালটিতে অত্যাধুনিক একটি অপারেশন থিয়েটারও রয়েছে। রয়েছে দুটি ভ্রাম্যমাণ ইউনিটও।
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি ভ্রাম্যমাণ ইউনিটে প্রায় দুইটি অপারেশন করা সম্ভব। কোন রোগী যদি আসতে না পারে ভ্রাম্যমাণ ইউনিটের গাড়ি চিকিৎসক-নার্সসহ সেখানে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে পারবে। কিন্তু হাসপাতালটির সব ধরনের সুযোগ সুবিধা এখন বন্ধ।
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ৯০ সালের দিকে এই হাসপাতালটি তৈরি হয়। পাঁচ থেকে সাত বছর চালু থাকার পর নানা জটিলতায় হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও আরও অনেক সমস্যা রয়েছে।
তবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তৈরি এই হাসপাতালটি কিভাবে আবার পুনরায় চালু করা যায় সেটি নিয়ে ভাবছে মন্ত্রণালয় বলেও জানান তারা।
এদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসির দাবি, এখন করোনা মৌসুম চলছে। সকল হাসপাতালেই রোগীদের ভিড়। হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হলে বেড পেতে বেগ পেতে হয়। এখন যদি এই হাসপাতালটি চালু করা যেত। তাহলে সেটা করোনা রোগীসহ, মিরপুর বাসিন্দাদের জন্য ভালো হত।
