ঘরে সিলিন্ডার মজুদ করবেন না, বিপদ হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনায় (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় অক্সিজেন অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে পরীলক্ষিত হচ্ছে যে, অনেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে রাখছে। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য। যা ঠিক নয়। কারণ অক্সিজেন থেরাপী একটি কারিগরি বিষয়। দক্ষ চিকিৎসক ব্যাতীত অন্য কেউ এটি প্রয়োগ করলে তা রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাছাড়া করোনা চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই অক্সিজেন দিতে হয় যা বাসায় দেয়া সম্ভব না। তাই জণসাধারণের কাছে অনুরোধ আপনারা বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ করবেন না। আপনার মজুদের কারণে বাজারে অক্সিজেন সিলিন্ডারের কৃত্তিম সংকট দেখা দিতে পারে। যার ফলে হাসপাতালের মুমূর্ষ রোগীরা যথাযথ সময় অক্সিজেন সিলিন্ডার পাবেন না। এমনটা আমাদের করোরই কাম্য নয়।
মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে ঘরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণেরও পরামর্শ দেন। একই সাথে যারা করোনার এই মহামারিতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের ধন্যবাদ দেন নাসিমা।
এ সময় নাসিমা আরো বলেন, অক্সিজেন থেরাপী প্রতি মিনিটে কতো লিটার বা কতো এমএল বা কতো মিলি লিটার অক্সিজেন যাবে তা শুধুমাত্র চিকিৎসকই নির্ধারণ করে দিতে পারেন। এবং একজন টেকনোলোজিস্টই পারেন বলতে কীভাবে সিলিন্ডারটির নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কাজেই সবার প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে আমরা যেনো নিজের বিপদ নিজে টেনে না আনি। অক্সিজেন সিলিন্ডার বাসার দক্ষ চিকিৎসক ছাড়া ব্যবহার না করি।
এদিকে বিশ্বে যখন মৃত্যু মিছিল তখন করোনায় বাংলাদেশেও দিনকে দিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ৯৭৫ জন মারা গেলেন। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৩ হাজার ১৭১ জন। ফলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। ৫৫টি ল্যাবে এই পরীক্ষাগুলো করা হয়।
প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২ লাখ ১০ হাজার ২০০ জন। মারা গেছেন চার লাখ ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে ৩৫ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
আরো পড়ুন: করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, সর্বোচ্চ শনাক্ত
করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।
