ঢাকা, শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ১৯ জুন, ২০২০ ১৯:৫৩

স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন চলছে রাজবাড়ী জুট মিলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন চলছে রাজবাড়ী জুট মিলের


‘রাজবাড়ী জুট মিল’ জেলার সব চেয়ে বড় পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এ জুটমিলে সবধরনের পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হয়। এখানে উন্নত মানের পাটের সুতা এবং ডাইভার্সিফাইড প্রোডাক্ট জুট ক্লথ (চট) ও ব্যাগ উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে উৎপাদিত শতভাগ পণ্যের পুরোটাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে করোনাভাইরাসের এ মহামারির সময় তাদের এ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও ব্যবসায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তারপরও ১ মাস বন্ধ থাকার পর সরকার ঘোষিত সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের জুট মিলের উৎপাদন আবার শুরু করেছেন।
তবে করোনাকালীন এ সময়ে বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতনাদি সময়মত পরিশোধসহ সব ধরনের সুবিধা দিয়ে আসছেন এ মিলটি। করোনাকালীন এ দুঃসহ সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি, যা অনেকাংশে প্রশংসার দাবিদার।
২০০৮ সালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের আলাদীপুরে স্থাপিত জুটমিলটি ২০০৯ সালে পাটজাত পণ্য উৎপাদন শুরু করে। এর আয়তন বর্তমানে ১১ একর এর ঊর্ধ্বে এবং ধীরে ধীরে এ জুটমিলের পরিধি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। মিলের সামনের দু-পাশে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন, ফল ও ফুলের গাছ রোপণ, লেক তৈরি এবং সুন্দর একটি দ্বিতল কাচের তৈরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে রাজবাড়ী জুটমিলের নান্দনিকতা বেড়েছে সেই সাথে বেড়েছে জেলার সুনামও। মসজিদটি সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য রয়েছে উন্মুক্ত।

বর্তমানে মিলটিতে তিনটি ইউনিট রয়েছে, যেখানে উৎপাদিত হয়-ইয়ার্ণ হাই কোয়ালিটি, হেসিয়ান সেকিং ইয়ার্ণ, হেসিয়ান সিবিসি ক্লথ, সিআরটি, সিআর এক্স, সিআরপি, এক্স মিনিস্টার, সিবিসি ক্লথ, ফুল ব্রাইট হেসিয়ান ক্লথ এবং ফুলব্রাইট এশিয়ান ব্যাগ ও কালার ইয়ার্ণ পাটজাত পণ্য। যার পুরোটাই বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
যার পুরোটাই, ইউএস, ইরান, হল্যান্ড, নেদারল্যান্ড ও তার্কিসহ বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত পাট পণ্য রপ্তানি করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানটিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আগে প্রতিদিন ৭৫ থেকে ৮০ মে: টন উপকরণ উৎপাদন হলেও বর্তমানে শ্রমিক কর্মচারী সংকট ও বিশ্ব বাজারে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় উৎপাদনে ভাটা পরেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপাদন বাড়ানোর জোর প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমানে এ জুট মিলে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছে।
শ্রমিক ও কর্মচারীরা বলেন, রাজবাড়ী জুট মিলটি করোনাভাইরাসের কারণে ১ মাস বন্ধ ছিল। মিলটি খোলার পর এখানে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে মিলে প্রবেশ এবং সামাজিক দূরত্ব রেখে উৎপাদন কাজ করতে হয় তাদের। স্বাস্থ্যবিধি মানার সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে করোনাভাইরাসের কারণে নানা সমস্যা থাকলেও এ পর্যন্ত মিল কর্তৃপক্ষ তাদের পারিশ্রমিক বকেয়া রাখেনি। এখানে কাজ করে তারা তাদের পরিবার নিয়ে ভালো আছেন বলে জানান।
রাজবাড়ী জুটমিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মকদুম আহম্মেদ পলাশ বলেন, যেহেতু তাদের উৎপাদিত পাটজাত দ্রব্য পুরোটাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। তাই বিশ্ব করোনাকালীন এ সময়ে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে থেকেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এ মিলের উৎপাদন আগের চাইতে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সবমিলিয়ে করোনা ভাইরাসের এ অসঙ্গতি কাটিয়ে উঠতে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক দিক ঠিক রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে এতে সরকারের আরো বেশি সহযোগিতায় প্রয়োজন বলে মনে করেন কর্তৃপক্ষ।
রাজবাড়ী জুটমিলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আলী আহম্মেদ বলেন, রাজবাড়ী জুট মিলস লি: শতভাগ রপ্তানি মুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান।করোনাকালীন সময়ে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম ১ মাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। সরকারের নির্দেশনায় শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ মিলের উৎপাদন প্রক্রিয়া আবার শুরু করেছেন। তবে শ্রমিক উপস্থিতি কম ও রপ্তানি চাহিদা ঘাটতির কারণে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন নেমে এসেছে আগের চাইতে প্রায় অর্ধেকে। তাদের উৎপাদিত পাটজাত পণ্য ইরান, তার্কিসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করে শ্রমিক কর্মচারীদের কাজে নিয়োজিত করছেন প্রতিষ্ঠানটি।

উপরে