ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ২২ জুন, ২০২০ ১৮:৪৬

সাইকেল মাথায় তুলে পারাপার করতে হয় তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাইকেল মাথায় তুলে পারাপার করতে হয় তাদের


স্বাধীনতার পর থেকে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আংগারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় ও আলোকডিহি গ্রামের মিলনস্থল ইছামতি নদীর খগিনশাহ ঘাটে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও, এক মাস আগে সাঁকোর কিছু অংশ ভেঙে যায়। এতে জনদুর্ভোগে পড়েছে দুই গ্রামের মানুষ।
গ্রামবাসী জানান, ছাতিয়ানগড় গ্রামের ইছামতি নদীর খগিনশাহ ঘাটে দীর্ঘদিন থেকে সাঁকো দিয়ে এলাকার মানুষ পারাপার হয়।
মাস খানেক আগে সাঁকোটির কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষ। চলাচলের অযোগ্য হলেও জীবিকার তাগিদে ও জরুরি প্রয়োজনে সাঁকোটি ব্যবহার করছে তারা। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর হলেও এ অ লের মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের জন্য নদী পার হতেও ভোগান্তি চরমে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটি প্রায় ১২০ মিটার দীর্ঘ। তবে এর প্রায় ৫০ মিটার ভেঙে যাওয়ায় শুধুমাত্র দুটি বাঁশের ওপর দিয়েই লোকজন চলাচল করছে। বাকিটুকুর বাশঁ-খুটি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সাঁকোতে উঠলে কাঁপতে থাকে। ফলে এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা মানুষজনই ঠিকমত চলাচল করতে পারছে না।
তারপরও জীবিকার তাগিদে উত্তরা ইপিজেডগামী ৭-৮শ'' শ্রমিক সাইকেল মাথার ওপর তুলে একহাত দিয়ে বাঁশ ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পার হচ্ছেন। আর ভ্যান, মোটরসাইকেলগুলো ১২০ মিটারের পথ ৫/৬ কি.মি ঘুরে যাতায়াত করছে। এই বাঁশের সাঁকোটির পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব পাশে একটি বাজার রয়েছে।
স্থানীয় এস.এম.রকি জানান, শুকনা মৌসুমে সমস্যা কম হলেও বর্ষায় দুর্ভোগে পড়ে তারা। অনেকে সেতু করার আশ্বাস দিলেও কেউ বাস্তবায়ন করেনি। দ্রুত এটি নির্বিঘ্নে চলাচল উপযোগী করা প্রয়োজন।
ইউপি সদস্য রশিদুল ইসলাম শাহ্ বলেন, এ এলাকার মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত এখানে সেতু নির্মাণ করা হলে আশপাশের বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবে ও গ্রামীণ অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে।
এ বিষয়ে আঙ্গারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা শাহ্ বলেন, সাঁকো সংস্কারে প্রতিবছর অনেক টাকা খরচ হয়। তাই সাঁকোর পরিবর্তে সেতু স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেতু নির্মাণ করে দিবেন বলে জানিয়েছেন।

উপরে