মোবাইল চুরি করতেই খুন করা হয় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে
একটি মোবাইল ফোনের লোভে খুন করা হয় নাটোরের চৌধুরী পাড়ার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মাজেদ খান চৌধুরীর স্ত্রী জাহানারা চৌধুরীকে (৬০)। এ ঘটনায় কিশোর হত্যাকারী সোহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, প্রয়াত মাজেদ খান চৌধুরীর বাড়িতে ভাড়া থাকার সুবাদে জাহানার চৌধুরীর মোবাইল ফোনের প্রতি লোভ ছিলো সোহানের। জাহানারা চৌধুরীর দুই ছেলে ঢাকা থাকায় তিনি একাই বাড়িতে বসবাস করতেন।
ঘটনার দিন সোহান বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে ফজরের নামাজের কিছু সময় আগে আক্তার নামক একজনের বাড়ির ছাদ বেঁয়ে নিচে নেমে পুরাতন জানালা ভেঙে জাহানারা বেগমের ঘরে ঢোকে সোহান। এরপর মোবাইল ফোনটি নেয়ার সময় জাহানারা বেগমের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি সোহানকে ঘরে কেন কিভাবে প্রবেশ করছে বলে চিৎকার করতে থাকে। সোহান ঘরের ভেতরে কাঠের র্যাকে থাকা ছুরি দিয়ে জাহানারা বেগমের পিঠে আঘাত করে।
এ সময় জাহানারা বেগম বাধা দিলে সোহান এলোপাতাড়ি ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে জাহানারা বেগম নিস্তেজ হয়ে এলে সোহান মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী জাহানারা চৌধুরীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যূ হয়।
পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, ঘটনার দুই ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে চক বৈদ্যনাথ থেকে পুলিশ সোহানকে আটক করে। অপরদিকে, নিহত জাহানারা বেগমের ছেলে আরমান খান চৌধুরী লুটু বাদী হয়ে সোহানসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। ধৃত সোহান গতকাল শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করলে সে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সোহান (১৬) শহরের কান্দিভিাটা এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।
