ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২০

নরসিংদীতে গণধর্ষণের পর হত্যা: র‌্যাব-১১ ও পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার-৪

নরসিংদী (শিবপুর) প্রতিনিধি
নরসিংদীতে গণধর্ষণের পর হত্যা: র‌্যাব-১১ ও
পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার-৪
-

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) র‌্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদী এবং জেলা পুলিশ, নরসিংদীর যৌথ অভিযানে চাঞ্চল্যকর গণ-ধর্ষণের পর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন কোতালিচর হোসেন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রে/প্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন:
মোঃ এবাদুল্লাহ (৪০), পিতা-মৃত শাহাবুদ্দিন, সাং-কোতোয়ালীরচর। মোঃ আইয়ুব (৩০),পিতা-আজগর আলী, সাং-বিলপাড়।
আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), পিতা-নাজির, সাং-হোসেন বাজার।মোঃ ইমরান দেওয়ান (৩২), পিতা-আহমেদ দেওয়ান, সাং-হোসেন বাজার।সকলের থানা-মাধবদী, জেলা-নরসিংদী।

মামলার বাদীনি তার স্বামী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মাধবদী থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), পিতা-শাহজাহান, সাং-কোতোয়ালীরচর, মাদুর বাড়ী, থানা-মাধবদী, জেলা-নরসিংদীর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী ভিকটিমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে প্রায়ই ভিকটিমকে তার বাসায় নিয়ে যেত।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নূরা কৌশলে ভিকটিমকে নিয়ে যায় মাধবদী থানাধীন মহিষাসুরা ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর এলাকায়, চৈতি টেক্সটাইল মিলের পেছনে। সেখানে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭)সহ অন্যরা ভিকটিমকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়।

পরদিন চৈতি মিলের ম্যানেজার শ্যামল (৪৬)-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে বাদীনি মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নিলে আসামিরা স্থানীয় মেম্বার আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে জানায়। পরে তিনি তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, নূরার সৎ ভাই ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০), গ্রাম সরকার আবু তাহের (৫০) ও মোঃ আইয়ুব (৩০)-সহ বাদীনির বাড়িতে গিয়ে পুলিশে অভিযোগ না করার জন্য চাপ দেন এবং বিচার করার আশ্বাস দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে তারা মূল আসামিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিচার না করে বাদী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। পরিবার এলাকা না ছাড়ায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে কোতোয়ালীরচর বড়ইতলার তিন রাস্তার মোড়ে বাদীনির স্বামী ও ভিকটিমের পথরোধ করা হয়। নূরা ভিকটিমকে বিয়ে করার কথা বলে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে পূর্বদিকে মাঠের দিকে নিয়ে যায়।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর দড়িকান্দী এলাকায় মোঃ জাকির হোসেনের সরিষা ক্ষেত থেকে ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল, ঠোঁট ও মুখ রক্তাক্ত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর থেকেই র‌্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদী ও জেলা পুলিশের যৌথ দল আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে চার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উপরে