logo
আপডেট : ২৮ জুন, ২০২০ ১৯:১১
করোনায় ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কিত গরু খামারি
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনায় ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কিত গরু খামারি


সামনে ঈদুল আযহা। গরুগুলো বিক্রি করতে হবে ঈদের আগেই। তবেই না লাভের টাকা আসবে ঘরে। তাই শেষ সময়ে শ্রমিকদের ওপর নির্ভর না হয়ে পরিবারের সকলেই মিলে ব্যস্ত গরুর সেবা ও মোটা-তাজাকরণে। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে একটি খামার গড়ে উঠেছে ঢাকার ধামরাই উপজেলার একেবারেই নিবৃতপল্লী ললিতনগর গ্রামে। মৃত শওকত হোসেনের ছেলে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের বাড়িতে এই খামার।
এ খামারে এক একটি গরুর ওজন হবে প্রায় ৫ মণ থেকে শুরু করে ৪০ মণ পর্যন্ত। এই খামারে ৫০টি ষাঁড় গরু রয়েছে। এ খামারের ভেতর ঢুকতেই ষাঁড়ের যে হাকডাক, তা হঠাৎ শুনলে ভয় পেতেই হবে। তবে খামারের স্বত্তাধীকারি আমজাদ হোসেন সামনে গেলে একেবারেই চুপচাপ হয়ে যায় গরুগুলো।
এ খামারে গরুগুলো লালন পালন করতে ৪ জন শ্রমিক রয়েছে। শ্রমিকদের পাশাপাশি নিজেদেরও পরিচর্যা করতে হয়।
খামার মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, ২ বছর আগে স্থানীয় হাট থেকে ছোট-বড় বিভিন্ন জাতের ৫০টি গরু প্রায় ১ কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করি। ৪ বছর ধরে নিজের মতো করে খামার গড়ে তুলেছি।
দেশীয় ব্যবস্থায় গরুগুলোকে লালন-পালন প্রসঙ্গে আমজাদ হোসেন বলেন, গরুগুলোকে কাচা ঘাস খাওয়ানোর জন্য নিজস্ব ৮ বিঘা জমিতে ঘাস রোপণ করেছি। এ ঘাসের পাশাপাশি প্রতিদিন কলা, ছোলা, খড়, ভুট্রা, আলু, মিষ্টি আলু, ভুষি ও খুদ দিনে ৫ থেকে ৬ বার খাওয়ানো হয়। গরুগুলো বিশাল আকৃতির হওয়ায় তাদের শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ২ থেকে ৩ বার গোসল করানো হয়।
এছাড়াও গরুগুলো সারাক্ষণ বাতাসের মধ্যে রাখার জন্য পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে।

বিক্রির ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে গরুর মালিক আমজাদ বলেন, প্রতি বছর ভালো লাভেই বাড়ি থেকে গরু বিক্রি হয়ে যায়। এই বছর করোনার প্রভাবে সারাদেশ নিস্তব্ধ। কারণ প্রতি ঈদের আগেই ক্রেতারা বাড়িতে চলে আসে। এবার তার কোন সাড়া পাচ্ছি না। আমার প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ৪ জন শ্রমিক খামারে কাজ করে। তাদের থাকা খাওয়া আমার ওপর। তারপরও প্রতি জনকে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। এবার আশা করেছিলাম সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা বিক্রি হবে। তা এখন শুভঙ্করের ফাঁকি! এবার লোকসান গুণতে হবে। ক্রেতার কোন সাড়া নেই।
আমজাদ হোসেনের খামারের বিশেষত্ব হলো, রাজা বাহাদুর নামে একটি বিশাল আকৃতির হহলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই গরুর ওজন প্রায় ৪০ মণের মতো হবে। আমজাদ হোসেনের মা শখ করে এই গরুর নাম রেখেছে রাজা বাহাদুর।

এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ান, পাঞ্জাব, নেপালি, সিন্দি, শাহিওয়াল ও দেশীয় জাতের গরু রয়েছে। প্রতিদিন নিজ গ্রাম ছাড়াও আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ এই গরুগুলোকে দেখতে আসে। বিশেষ করে রাজা বাহাদুরকে।
রাজা বাহাদুরের দাম সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরুটির দাম ১৫ লক্ষ টাকা হলে বলে আশা করছি।
তিনি আরো বলেন, করোনার প্রভাবে দাম নিয়ে খুব শঙ্কিত আছি। যদি করোনার প্রভাব ঈদের আগে একটু শিথিল না হয় এবং দেশের বাইরে বিশেষ করে ভারত থেকে গরু না আসে, হয়তোবা একটু দাম আশা করা যায়।
চিকিৎসাসেবা সর্ম্পকে জানতে চাইলে খামারের মালিক আমজাদ বলেন, আমি আজও পর্যন্ত উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার দেখা পাইনি। তাই স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েই খামার পরিচালনা করছি।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com