করোনালীন সময়ে অসহায় মানুষের মাঝে কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী যুবকদের সংগঠন সেভ দ্যা হিউম্যানেটি। করোনা প্রাদুভার্বের শুরু থেকে গত তিন মাসে প্রায় ১২শ' মানুষকে সেবা প্রধান করেছে এ সংগঠন। যার মধ্যে জনসচেতনতা, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও অর্থিক সহায়তা, করোনা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা ও করোনায় মৃতদের দাফন কার্যক্রম অন্যতম।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ, লালমাই, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট এলাকায় এ সেবা প্রদান করা হয়েছে। ২৫ জন যুবক এ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত আছেন। এ কার্যক্রম চলমান থাকলে বলে জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
সংগঠনের সূত্রমতে, করোনা প্রাদুভার্বের শুরুতে সর্বসাধারণের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড সেনিটাইজার ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে অর্থিক সহায়তা, করোনা রোগীদের জন্য ফ্রী এ্যাম্বুলেন্স সেবা, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের মাঝে ডাক্তারের পরামর্শে অক্সিজেন সিলিন্ডার, ফালস অক্সিমিটারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া স্বেচ্ছায় রক্তদানসহ বিভিন্ন সামাজিক সেবা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। করোনা রোগীর জন্য খাদ্য সহায়তা ও কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা, করোনা জয়ীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির দাফন, কাফন ও জানাযায় ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, প্রথমদিকে স্বেচ্ছাসেবী কম ছিলো, কাজ কম হয়েছে। ইকবাল হাফিজ, হাফেজ পেয়ার আহমেদ, মো. সেলিম, মো. রিপন ইসলাম এইসব কাজে সহায়তা করেছে। তারা এখনো নিয়মিত কাজ করছেন। এখন ২০-২৫ জন সদস্য কাজ করে যাচ্ছেন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন জানান, বিশ্বের এ ক্রান্তিকালে আমাদের অবস্থান থেকে হতদরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করা এটি ক্ষুদ্র প্রায়াস। টিমের সদস্যদের আন্তরিকতার কারণে এ সেবা দেয়া সম্ভব হয়েছে। স্ব-অর্থায়নে একটি সামাজিক উদ্যোগ। ঈদের পূর্বে ১৭ দফায় প্রায় ১২শ' পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে গত তিন মাসে ২৩২ ব্যাগ বিনামূল্যে রক্ত দেয়া হয়েছে। সবার দোয়া ও সহযোগীতায় এ সেবা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ প্রতিটি অনুরোধ করবো, যে যার অবস্থান থেকে অপরের প্রতি মানবিক হোন।
প্রসঙ্গত, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানামুখী সামাজিক কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে মানুষের অবস্থা অর্জন করেছে স্বেচ্ছাসেবীরা।