সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্নে হাস্যোজ্জ্বলভাবে উত্তর দেয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। বলেছেন, 'এই ঘটনায় আমি দুঃখিত ও লজ্জিত। এতে যারা শোকাহত হয়েছেন তাদের কাছে বিষয়টি ক্ষমা সুন্দরভাবে নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।'
মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে বিসিআইসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন মন্ত্রী।
রবিবার বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং গত ২১ জুলাই একটি বাসের এক যাত্রী দরজার ধাক্কায় রক্তাক্ত হওয়ার পর তাকে মৃত ভেবে নদীতে ভাসিয়ে নেয়া নিয়ে নৌমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন সাংবাদিকরা। বাগেরহাটের মংলা সমুদ্রবন্দরের জন্য একটি যন্ত্র কেনার বিষয়ে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ছিলেন মন্ত্রী। আর সেই প্রশ্ন শুনে তিনি হেসে বলেন, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সেটা প্রাসঙ্গিক কি না।
পরে অবশ্য মন্ত্রী বলেন, যার যতটুকু অপরাধ, সে ততটুকু শাস্তি পাবে। তবে এই জবাবের চেয়ে মন্ত্রীর হাসিমুখের ছবি নিয়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠে।
সচিবালয়ের ওই ঘটনা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন আমরা সবাই খুব উৎফুল্ল ছিলাম, ৬৮ বছর পর আমরা মংলা বন্দরের জন্য ক্রেন কিনেছি। ওখানে চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছিল। সেখানে বক্তৃতার সময় আমি খুব হাস্যোজ্জ্ববলভাবে কথা বলছিলাম। আমি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করলাম, আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। এক সাংবাদিক তখন দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তারপরেও কিছু কথার পরিপ্রেক্ষিতে নানাভাবে কথা বলানোর চেষ্টা করেন। তখন আমি কিছুটা হাসি-খুশিভাবে কথা বলেছি।’
‘আমার বোধহয় এটা একটা অপরাধ। আমি সব সময় হাসি। আমি একটু হাসি এটা যদি অপরাধ হয় তবে আমি আর হাসবো না।’ হাসতে হাসতেই বলেন নৌমন্ত্রী।
শাজাহান খান বলেন, ‘কেউ যদি বলেন, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আমি শুধু ড্রাইভারদের পক্ষ নিই এটি ঠিক নয়। যে ভুল করবে যে অন্যায় করবে তার সাজা তাকে পেতে হবে। এটি আগেও বলেছি, এখনও বলছি।’
শোকাবহ আগস্ট ও দুই বাসের রেষারেষিতে বিমানবন্দর সড়কে নিহত দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে অনুষ্ঠানের শুরুতেই শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এসময় নৌমন্ত্রীসহ সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।