বাস চাপায় রাজধানীতে দুই শিক্ষার্থী নিহতের জেরে আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা নৌ পরিবহনমন্ত্রী ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের কুশপুতলে আগুন দিয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী শাহবাগে জড়ো হয়। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে নয় দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের কুশপুতুলে আগুন দেয়।
রবিবার কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ঘটনার পর সাংবাদিকের প্রশ্নে শাজাহান খান অনুষ্ঠানের সঙ্গে প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক নয় বলে হাস্যমুখে জবাব দেন।
পরে অবশ্য মন্ত্রী বলেন, ‘যার যতটুকু অপরাধ, সে ততটুকু শাস্তি পাবে।’ তবে এই জবাবের চেয়ে মন্ত্রীর হাসিমুখের ছবি নিয়ে সব মহলে শুরু হয় চরম সমালোচনা।
পরদিন বিক্ষোভে নৌমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশের দবি জানানো হয় এবং মন্ত্রী স্বীকার করেন, তার হাসি দেয়া উচিত হয়নি আর এই ছবি দেখে তিনি নিজেও মর্মাহত হয়েছেন।
তারও পরদিন মন্ত্রী আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু তারপরও বিষয়টি শেষ হয়নি।
বুধবার সকলে টানা তৃতীয় দিনের মতো নগরীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বসে আছে শিক্ষার্থীরা।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা অনেক ঘটে থাকে৷ কিন্তু একটি ঘটনারও বিচার হয় না৷ যে কারণে গাড়িচালকরা আরও বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে৷ আমরা নিরপাদ সড়কের দাবি জানাচ্ছি।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে নৌমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে৷ তা না হলে আমরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াব না৷ একইসঙ্গে মন্ত্রীকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।’