পরিবহন খাতে আইনের কঠোর প্রয়োগের পক্ষে পরিবহন শ্রমিকদের নেতা শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের অনিয়ম তারা দেখতে চান না।
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর টানা ছাত্র বিক্ষোভে রাজধানীতে যখন অচলাবস্থা তখন বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ বৈঠক ডাকেন।
এই বৈঠকে নৌমন্ত্রী ছাড়াও পরিবহন খাতের আরেক নেতা স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতা, পুলিশ প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্ররা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের যেসব দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছে, সেগুলো সব মেনে নেয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেই সঙ্গে বৈঠকে সব পক্ষ আলোচনা করে কী কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাও জানান তিনি।
এরপর এক সাংবাদিক নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রশ্ন করেন তিনি কেন এই বৈঠকে এসেছেন এবং কী নির্দেশনা পেয়েছেন?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উনাকে এখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি এই কারণে যে, পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের তিনি নেতৃত্ব দেন। ‘উনি শ্রমিক সংগঠন পরিচালনা করেন এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মালিক সংগঠন পরিচালনা করেন, সে কারণেই তাদের আমি বৈঠকে ডেকেছি।’
‘আমাদের ইচ্ছা মালিক ও চালকরা যেভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলবে। তেমনিভাবে পথচারীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।’
নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখানে এসেছি। উনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমরা যেন তাতে সহায়তা করি। মালিক এবং শ্রমিকরা যৌথভাবে তাকে সহায়তা করব।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে শাজাহান খান বলেন, ‘ওনিও বলেছেন, কঠোর আইনের প্রয়োগটা আমরা চাচ্ছি। আইনের সঠিক প্রয়োগটা হলে পরে অনেক অনিয়ম দূর হয়ে যাবে। পরিবহন সেক্টরে আমরা অনিয়ম দেখতে চাই না।’
ছাত্ররা যেসব দাবি জানাচ্ছে তার মধ্যে আছে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে চালকের মৃত্যুদণ্ডের বিধান করতে হবে।
বিমানবন্দর সড়কের দুর্ঘটনাটি হত্যা হিসেবে দেখেন কি না, এ প্রশ্নে পরিবহন শাজাহান খান বলেন, ‘কোনটা হত্যা, কোনটা দুর্ঘটনা, সেট নির্দিষ্ট করা আছে আইনে। যেটা হত্যা সেটা হত্যা, যেটা দুর্ঘটনা সেটা দুর্ঘটনা।’
সড়ক দুর্ঘটনা ও সড়ক পরিবহনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় নৌমন্ত্রী নানা সময় নানা বক্তব্যের কারণে সমালোচিত হয়েছেন। আর গত রবিবারের দুর্ঘটনার পর মন্ত্রী হাসিমুখে কথা বলা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছে। আর ছাত্র বিক্ষোভেরও এটি অন্যতম একটি কারণ।
ছাত্ররা মন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। আর সোমবারই এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, তার হাসা উচিত হয়নি আর এই ছবি দেখে তিনি মর্মাহত হয়েছেন। এরপরও ক্ষোভ না থামায় মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে শাজাহান খান দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।
সড়ক পরিবহন নৌমন্ত্রীর দায়িত্ব নয়। তবে তিনি পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা এবং সেই সুবাদে শ্রমিক নেতাও বটে। পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তার ব্যাপক প্রভাব আছে বলে ধারণা করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় এক চালকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রতিবাদে দেশজুড়ে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেও সমালোচিত হয়েছিলেন শাজাহান খান।
২০১১ সালেও নৌমন্ত্রী ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন গরু ছাড়ল চিনলেই লাইসেন্স দেয়া যায় মর্মে বক্তব্য দেয়ায়। এর আগে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে চালকদের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বেধে দেয়ার শর্ত দেয়া হয়েছিল, যেটার জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সেই থেকে আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনা হলেই নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠে। আর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে নৌমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি নিশ্চয়তা দেয় তিনি পদত্যাগ করলে দুর্ঘটনা কমবে, তাহলে তার পদত্যাগে আপত্তি নেই। সড়ক দুর্ঘটনা এবং ঢাকায় বাস চলাচলে নৈরাজ্য দূর করতে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।