বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাসায় গিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
সংগঠনের নেতৃত্ব পাওয়া দুই নেতা বৃহস্পতিবার বিকালে মিমের মহাখালীর দক্ষিণপাড়ায় দিয়াদের বাসায় যান। সেখানে তাঁরা ৩০ মিনিট অবস্থান করে মিমের বাবা জাহাঙ্গীর ফকির ও পরিবারে সদস্যদের সন্ত্বনা দেন।
দুই নেতা নেতাকর্মীদের নিয়ে পূর্বঘোষিত সময়ানুযায়ী দুপুর দুইটার কিছু সময় পরে যান। ওই সময় দিয়ার বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ছিলেন। প্রায় দুইঘণ্টা তাঁরা সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করেন। পরে তাঁরা দিয়াদের বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘আমরা ওনাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ আলাপ করেছি। ওনাদের সান্ত্বনা দিয়েছি। ওনারা আমাদের বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা তাদের আশ্বস্ত করেছেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়েছেন।’
‘ওনারা (মিমের বাবা, মা) বিক্ষুব্ধ ছাত্র সমাজকে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আমরাও আশা করি দিয়ার বাবার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের কোমলমতি ভাই-বোনেরা ঘরে ফিরে যাবেন।’
গত ২৯ জুন বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় নিহত হন রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের মিম ও আবদুল করিম রাজীব। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে ছাত্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আর সোমবার থেকে টানা চারদিন ধরে শিক্ষার্থীরা নগরীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রেখে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পরিবহন শ্রমিকদের নেতা নৌ মন্ত্রী শাহাজান খানও মিমের বাসায় দিয়ে সান্তনা জানানোর পাশাপাশি এই ঘটনার বিচারের আশ্বাস দিয়ে এসেছেন।
ছাত্ররা যে নয় দফা দাবি জানাচ্ছে, সেটি বুধবার বিকালেই মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপরও বৃহস্পতিবার রাস্তায় নামে হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
এই অবস্থানের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে ১২ ঘণ্টা। আর দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মিমের বাবা ও রাজীবের মা। তারা দুই জনই ছাত্রদেরকে রাস্তা থেকে উঠে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।