ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর ধানমন্ডি, জিগাতলা ও সাইন্সল্যাব এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শনিবার দুপুর থেকে দফায় দফায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একদল যুবকের ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্নণায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার কথা বলে স্থানীয় ছাত্রনেতারা। অপর দিকে দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় থাকে শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দফায় দফায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে দফায় দফায় টিয়ারশেল নিক্ষেপের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শী শামীম জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেড কোয়ার্টারের গেটের সামনে অবস্থান নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সামনে বিপুল পরিমাণ দাঙ্গা পুলিশ ও সরকার সমর্থিতরা অবস্থান নেয়।
এ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিটি কলেজের সামনে অবস্থান নিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই থমথমে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আড়ালে ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা করেছে। অপর দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকদফা টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনায় এক শিক্ষার্থী নিহতের সংবাদ ছড়ালেও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতরা পপুলার ডায়গনাইস্টিক সেন্টার, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও আসপাশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে কালশি ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। তখন পেছন থেকে আরেকটি দ্রুতগতি সম্পন্ন জাবালে নূরের বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমিষেই বাসটি ওঠে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর। চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুইজন। এ ছাড়া আহত হয় আরও ১৩ জন শিক্ষার্থী।
নিহত দুজন হলো- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।
ওই ঘটনায় গত রোববার রাতেই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩৩। এ ঘটনায় জাবালে নূরের তিনটি বাসের তিন চালক ও দুই হেলপারকে গ্রেফতার করে র্যাব।
আন্দোলনে নেমে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি করে শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো- দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ী বেপরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে, নৌ-পরিবহনমন্ত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্প্রিড ব্রেকার দিতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভর সরকারকে নিতে হবে, শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে- থামিয়ে তাদের নিতে হবে, শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না এবং বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।