নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের পক্ষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের স্কুল ড্রেস সরবরাহের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। আর ছাত্রদেরকে পোশাক সরবরাহের দরকার কী সে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, অছাত্রদেরকেই এসব পোশাক দেয়া হয়েছে।
রবিবার থেকে রাজধানীতে শুরু হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহের বিষয়ে জানাতে শনিবার এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন পুলিশ কমিশনার।
গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় পরদিন থেকে শুরু হওয়া ছাত্র বিক্ষোভে গত কয়েকদিনে অনুপ্রবেশের তথ্য মিলছে। বছরের এই সময়ে স্কুল ড্রেসের কোনো চাহিদা না থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপকভাবে তা বিক্রি হয়েছে।
ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘দেশের চলমান পরিস্থিতিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেই কাজটি করছে তাদেরকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। তবে তাদের এই মহতি কাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি স্বার্থন্বেষী মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্লাকার্ডে অশ্লীল বাক্য লিখে তাদের দিয়ে বহন করাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্নস্থানে মোটরসাইকেলযোগে খাদ্য, পানি, স্কুলের পোশাক সরবরাহ করছে।
‘আমাদের কাছে গোয়েন্দা প্রতিবেদন রয়েছে একটি কুচক্রী মহল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই মহতি উদ্যোগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে তৎপর রয়েছেন। ইতোমধ্যে যাত্রাবাড়ী এলাকায় রাব্বি নামের এক শিক্ষার্থী একটি কভার্ডভ্যান থামাতে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া তোলারাম কলেজের একটি শিক্ষার্থীও একইভাবে আহত হয়েছেন।’
প্রতিটি কাজের ভালো-মন্দ দিক রয়েছে। তাদের এই কার্যকমে অংশ নিতে গিয়ে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি তাদেরকে ব্যবহার করে একটি কুচক্রীমহল তাদের অপকর্মের দায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপরে দায় চাপাতে চাচ্ছে।’
আন্দোলনের মধ্যে নানা ঘটনার কথা তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা ৩১ বছরের চাকরি জীবনে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে হামলা, মিরপুর পুলিশ লাইনে হামলা, কাফরুল থানায় হামলার মতো ঘটনা কখনও দেখিনি।’
‘এতকিছুর পরেও আমরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। এসব ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থী জড়িত রয়েছে তা আমরা বিশ্বাস করি না।’
‘কেউ কেউ চাইছে আমরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতি হামলা করি। কিন্তু সেই কাজটি আমরা করব না। শিক্ষার্থীরা আমাদেরই সন্তান তারা আমাদের দেশের ভবিষ্যত কান্ডারি। তারা একদিন দেশ পরিচালনা করবে।’
‘আমি তাদের, তাদের পরিবারে অবিভাবকদেও, স্কুল কলেজের শিক্ষক গভর্নিংবডির সদস্যদের অনুরোধ করছি। তাদেরকে ঘরে ফিরিয়ে নিন।’
শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কোনো বিরোধ নেই জানিয়ে আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘যেই কাজটি আমাদের করা উচিত ছিল কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার জন্য আমরা করতে পারিনি। সেই কাজটি আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা করছে। এজন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা তাদেরকে আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করি না। তারা আমাদের সন্তানের মতো।’
রবিবার থেকে সাত দিনের ট্রাফিক সপ্তাহে পুলিশ সদস্যরা যানবাহনের বৈধতা, মেয়াদ, ফিটনেস, চালকের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করবেন বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।
শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না- এমন প্রশ্নে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রমে আগেও স্কাউট এবং গার্লস গাইডরা সহযোগিতা করেছে। এবারও তারা থাকবে। শিক্ষার্থীরা চাইলে সহযোগিতা করতে পারে।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম, গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান সহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।