কুমিল্লা যাবেন সাদেক খান। সায়েদাবাদ টার্মিনালে গিয়ে বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করেন। এর মধ্যে একটি বাসে যাত্রী তোলাও হয়। কিন্তু আধা ঘণ্টা পর জানানো হয় বাসটি যাবে না।
সাদেকের কুমিল্লায় যেতেই হবে। থেমে থাকলে চলবে না। তাই এলেন কমলাপুর রেলস্টেশনে। ওই পথের একটি ট্রেনে উঠবেন তিনি।
স্টেশনে সাদেকের মতো হাজার হাজার যাত্রীর ভিড় সকাল থেকে। কোন ট্রেনে উঠবেন, কখন সে ট্রেন ছাড়বে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই তাদের। তবু একটিতে চাপা যাবে, এই ভরসায় তারা গেছেন স্টেশনে।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর নিরাপত্তার অভাবের অজুহাত দেখিয়ে মালিক-শ্রমিকরা বন্ধ করে দিয়েছেন বাস। দেশের কোথা থেকে বাস আসছে না রাজধানীতে। আবার এখান থেকে কোনো বাস যাচ্ছে না দেশের কোথাও।
এই পরিস্থিতিতে ট্রেনে বেড়েছে ভিড়। ঈদ মৌসুমের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রেলস্টেশনে।
গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের এমইএসে বাসচাপায় দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গত ছয় দিন ধরে রাস্তায় হাজার শিক্ষার্থী। সড়কে শৃঙ্খলার জন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা করছে যানবাহনের লাইসেন্স।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে নিরাপত্তার কথা বলে শুক্রবার সকাল থেকে বাস চালানো বন্ধ করে দেয় পরিবহন মালিকরা।
আর কোনো ঘোষণা ছাড়া পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের হঠাৎ হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোপটা গিয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। জরুরি কাজে যাদের অন্য জেলায় যেতেই হবে তারা ভরসা মানছেন ট্রেনে।
ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীতে আসা বা রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার পাশাপাশি টঙ্গী ও উত্তরা থেকেও প্রচুর যাত্রী কমলাপুরে আসছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী ট্রেনে। ঈদ মওসুমের মতো উপচে পড়া ভিড়।’
কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ট্রেন আসছে যাত্রীতে ঠাসা হয়ে। যেসব ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে, সেগুলোর প্রতিটি বগি ভর্তি। এরপর বিমানবন্দর স্টেশন থেকে উঠবেন আরও যাত্রী। তাই সহজেই অনুমান করা যায়, ওই স্টেশনের যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে কতটা ভোগান্তিতে পড়বে।
রাজশাহী সিল্কসিটির যাত্রী মাহমুদ জুয়েল বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাসশ্রমিকরা এক ধরনের অঘোষিত ধর্মঘট ডেকেছে। রাস্তায় বাস দেখাই যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ট্রেনে ঝুলে, ছাদে চড়ে গন্তব্যে রওনা হতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় ফেরা আবির তালুকদার বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় আসা। রাস্তায় কোনো বাস নাই, তাই ট্রেনে আসতে হলো। টাঙ্গাইল থেকে ট্রেনের প্রতিটি বগি যাত্রীতে ঠাসা। জয়দেবপুরে যাত্রীর ভিড়ে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়। তারপর কষ্ট করে ঢাকা পর্যন্ত আসতে পারলাম।’
ভৈরব থেকে এসেছেন আব্দুল করিম। তিনি বলেন, ‘পা রাখার মতো অবস্থা ছিল না ট্রেনে। এই উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তার ওপর বিমানবন্দরে এসে যাত্রীর চাপ আরও বেড়ে যায়।’
শনিবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও বেসরকারি বহু অফিস খোলা ছিল। পথে নানা যানবাহন বদলে বদলে অফিসে আসতে হয়েছে চাকরিজীবীদের। আর উত্তরা থেকে আসা যাত্রীরা যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করার সামর্থ্য নেই তারা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে টেনে চেপে কমলাপুরে এসে গন্তব্যে গেছেন। একইভাবে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর গন্তব্যের যাত্রীও দেখা গেছে প্রচুর।