logo
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:৫৫
আসমানের দরজা খুলে যাওয়ার মাস আসন্ন : আমরা কতটা প্রস্তুত?
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসমানের দরজা খুলে যাওয়ার মাস আসন্ন : আমরা কতটা প্রস্তুত?

প্রতীকী ছবি

রমজান শুধু একটি মাসের নাম নয়; এটি রহমত, ক্ষমা ও নাজাতের এক মহামূল্যবান মৌসুম। বছরজুড়ে ব্যস্ততা, গাফিলতি ও নানা ভুলে আচ্ছন্ন মানুষের জন্য এই মাস আসে আত্মশুদ্ধি ও নতুনভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে। মুমিনের হৃদয়ে তাই রমজানের আগমন মানেই এক ধরনের আনন্দ, প্রত্যাশা ও প্রস্তুতির সময়। যেন আল্লাহর বিশেষ মেহমান হওয়ার আগে অন্তরকে পরিষ্কার করা, আমলকে গুছিয়ে নেওয়া এবং জীবনের গতিপথকে সঠিক দিকে ফিরিয়ে আনার এক আন্তরিক চেষ্টা।

এ প্রেক্ষাপটে হাদিসে রমজানের মাহাত্ম্য সম্পর্কে এক অনন্য সুসংবাদ এসেছে। আবু হুরাইরাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتْ الشَّيَاطِينُ

রমাজান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানগুলোকে শিকলবন্দি করে দেওয়া হয়। (বুখারি, হাদিস : ১৮৯৯)

এই হাদিসে রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশের এক গভীর বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।

আসমানের দরজা খুলে দেওয়া মানে আল্লাহর রহমত, দয়া ও কবুলিয়তের পথ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া। এ সময় ইবাদত সহজ হয়, দোয়া কবুলের আশা বেড়ে যায় এবং নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া বোঝায়, মানুষের জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা ও তওবার সুযোগ বিশেষভাবে সহজ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে শিকলবন্দী করার অর্থ হলো, মানুষের পথভ্রষ্ট হওয়ার বড় বাহ্যিক প্ররোচনাগুলো দুর্বল হয়ে যায়।

তবুও কেউ যদি গুনাহে লিপ্ত হয়, তবে বুঝতে হবে তার নফস ও অভ্যাসই তাকে টেনে নিচ্ছে।

এই হাদিস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়: রমজান এমন একটি সময়, যখন আল্লাহ নিজেই বান্দার জন্য নেকির পথ সহজ করে দেন। তাই এই মাসকে হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। বরং আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া একজন সচেতন মুমিনের দায়িত্ব।

রমজানের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, আন্তরিক তওবা। অতীতের গুনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং নতুন জীবন শুরু করার দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ইবাদতের পরিকল্পনা। কোরআন তিলাওয়াত, তারাবি, তাহাজ্জুদ, জিকির ও দোয়ার একটি বাস্তবসম্মত রুটিন আগে থেকেই নির্ধারণ করা উচিত।

তৃতীয়ত, গুনাহ থেকে দূরে থাকার মানসিক প্রস্তুতি। মিথ্যা, গীবত, অশ্লীলতা, সময়ের অপচয় ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে হবে।

চতুর্থত, দান-সদকা ও মানুষের উপকারে এগিয়ে আসার মানসিকতা গড়ে তোলা দরকার, কারণ রমজান সহমর্মিতা ও উদারতার মাস।

সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো হৃদয়ের প্রস্তুতি। রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; এটি চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরকে সংযত রাখার সাধনা। যদি অন্তর পরিবর্তিত না হয়, তবে রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।

অতএব, যখন আসমানের দরজা খুলে যায়, তখন আমাদেরও হৃদয়ের দরজা খুলে দিতে হবে। যখন জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়, তখন গুনাহের পথও বন্ধ করতে হবে। আর যখন শয়তান শিকলবন্দী হয়, তখন নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে আনার এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। যে ব্যক্তি প্রস্তুতি নিয়ে রমজানকে গ্রহণ করে, তার জন্য এই মাস সত্যিই হয়ে ওঠে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক বরকতময় সময়।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com