logo
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৮:০০
যমুনাতেই উঠছেন তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক

যমুনাতেই উঠছেন তারেক রহমান

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রকল্পের তহবিল শিল্প খাতে অর্থায়ন না করে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। ওই বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফায় অভিজ্ঞতা অর্জনে কর্মকর্তাদের সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অনুমোদন দিয়েছেন বিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, যাঁকে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটিতে ছয় সদস্যের একটি বিনিয়োগ কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির সদস্য এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা অর্জনে বিদেশ ভ্রমণের কথা রয়েছে। তবে গভর্নরের অনুমোদন পেলেও ভিসার জন্য সুইস দূতাবাসের শিডিউল না মেলায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এ বিদেশ সফর নিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উল্লিখিত প্রকল্পটি হচ্ছে সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম সাইজড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসএমইডিপি-২)। এটি বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত একটি পুনরর্থায়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য গ্রামীণ ও শহরের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ দেওয়া। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এসএমই খাতের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রায় ১৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র জানান, প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও বিনিয়োগ কমিটির সদস্যদের অভিজ্ঞতা অর্জনে আগামী মার্চে সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা। ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং ভিজিট অন এসএমই ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক এ বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদনটি হয় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ৯ ফেব্রুয়ারি বিদেশ ভ্রমণের সরকারি আদেশ জারির লক্ষ্যে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

 

জানা গেছে, এসএমইডিপি-২ প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগের মাধ্যমে যে মুনাফা হয়, তার মধ্যে প্রায় ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা রাখা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জমা রাখা মুনাফার টাকায় বিনিয়োগ কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বৈদেশিক এক্সপোজার ভিজিটে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আলোচ্য প্রকল্পটির ঘূর্ণায়মান তহবিলের অর্থ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে না দিয়ে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এ থেকে মুনাফা হলেও প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। উপরন্তু সেই মুনাফার একটি অংশ ব্যয় করে বিদেশ সফরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়ে গেছেন বিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, যা প্রকল্পটির মূল্য উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সংকট ও ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি প্রকল্পের মুনাফা বা উন্নয়ন বরাদ্দে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। সর্বশেষ ২৫ জুলাই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ বিভাগ। এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে গতকাল বিকালে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বিষয়টি জানিয়ে ‘মেসেজ’ দেওয়া হলেও জবাব দেননি।

প্রকল্পের মুনাফার টাকায় এ ধরনের বিদেশ ভ্রমণ যৌক্তিক কি না-জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মুনিরা ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ইনভেস্টমেন্ট পলিসি অনুসরণ করেই দক্ষতা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যয়ে কোনো সরকারি ব্যয়ের সংশ্লেষ নেই। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের একটি রিভলভিং ফান্ড অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার ও সুদের হার কমে যাওয়ায় ঘূর্ণায়মান তহবিলটির মূলধন হ্রাস পাচ্ছিল। পরে ইন্টারনাল অডিট বিভাগের পরামর্শে প্রকল্পের বিনিয়োগ কমিটি ওই অব্যবহৃত তহবিল সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলে আমরা লাভবান হই। যার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর এই বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দেন।’ তবে অনুমোদন পেলেও ভিসা জটিলতায় ও সরকারি প্রতিনিধির বিদেশ ভ্রমণের জিও ইস্যু না হওয়ায় তাঁদের বিদেশ সফরটি অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে জানান প্রকল্পের ওই কর্মকর্তা।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com