ভোলার আকাশে এখন শুধু কালবৈশাখীর মেঘই নয়, নেমে এসেছে বিদ্যুৎ সংকটের ঘন অন্ধকারও। ভোলা সদরের খেয়াঘাট এলাকায় স্থাপিত ৩৪.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি টানা ৯ মাস ধরে বন্ধ থাকায় জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
২০০৯ সালে চালু হওয়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ভোলাবাসীর বিদ্যুতের প্রধান ভরসা ছিল। তবে চলতি বছরের ১২ জুলাই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে কোনো চুক্তি না হওয়ায় কেন্দ্রটি আর চালু করা যায়নি। ফলে হঠাৎ করেই থমকে যায় স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন।
বর্তমানে ভোলা সদর উপজেলার বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের বোরহানউদ্দিন থেকে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু সেই সরবরাহও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম—মাত্র প্রায় ৬৫ শতাংশ। ফলে দিনভর চলছে ঘনঘন লোডশেডিং।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিদ্যুৎ সংকট শুধু দৈনন্দিন জীবনই নয়, অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা দিচ্ছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না, বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
একজন ব্যবসায়ীর ভাষায়, “দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। জেনারেটর চালাতে খরচ বাড়ছে, লাভ কমে যাচ্ছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে যদি দ্রুত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়, তাহলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা সম্ভব।